জাতীয় ডেস্ক
দেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী শক্তি ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে গো-কার্ট (রেসিং কার) তৈরি করা তরুণ উদ্ভাবক রিজওয়ান রশিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এসময় প্রধানমন্ত্রী শুধু এই নতুন প্রযুক্তিটি পর্যবেক্ষণই করেননি, বরং নিজেই যানটি চালিয়ে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিজওয়ান রশিদের এই উদ্ভাবনের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হলে তা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই তরুণের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আমন্ত্রন জানানো হয়। আজ দুপুরে রিজওয়ান রশিদ নিজেই তাঁর তৈরি গো-কার্টটি চালিয়ে মোহাম্মদপুর থেকে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যানটির যান্ত্রিক কাঠামো এবং নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন। তিনি নিজে স্টিয়ারিং ধরে গাড়িটি চালিয়ে দেখার পর রিজওয়ান রশিদের মেধা ও একাগ্রতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার মেধাবী তরুণদের কারিগরি ও সৃজনশীল কাজের বিকাশে সব ধরনের সহায়তা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি এই গো-কার্টের আরও আধুনিক এবং উন্নত সংস্করণ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার আশ্বাস দেন।
উদ্ভাবক রিজওয়ান রশিদ জানান, ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার পরবর্তী অবসর সময়ে তিনি এই গাড়িটি তৈরির পরিকল্পনা করেন। পেশায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যান্ত্রিক বিভাগে কর্মরত তাঁর বাবার কাছ থেকেই তিনি কারিগরি বিষয়ে প্রাথমিক অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা লাভ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার প্রস্তাব থাকলেও চার চাকার যানের প্রতি আগ্রহ এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার চ্যালেঞ্জ জয় করতেই তিনি নিজেই স্ক্র্যাপ পার্টস ও সুলভ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে এই গো-কার্টটি তৈরি করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত সংহতি প্রকাশকে দেশের তরুণ সমাজ ও উদীয়মান উদ্ভাবকদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাষ্ট্রপ্রধানের এমন প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ মাঠপর্যায়ের উদ্ভাবনগুলোকে মূলধারার শিল্পায়নের দিকে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে। এটি কেবল অটোমোবাইল খাতের ক্ষুদ্র উদ্যোগকে অনুপ্রাণিত করবে না, বরং কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণদের আত্মকর্মসংস্থান ও নতুন প্রযুক্তির গবেষণায় আগ্রহী করে তুলবে।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে তরুণদের এমন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্ভাবনই ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার ভিত্তি তৈরি করবে। দেশীয় মেধা ও সম্পদের সমন্বয়ে আধুনিক প্রযুক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সরকার একটি সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


