ডিসেম্বরে এসএসসি পরীক্ষা: সেশনজট নিরসনে সরকারের মহাপরিকল্পনা

ডিসেম্বরে এসএসসি পরীক্ষা: সেশনজট নিরসনে সরকারের মহাপরিকল্পনা

জাতীয় ডেস্ক

শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সেশনজট নিরসন এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়া রোধ করতে ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ওই বছরের ডিসেম্বর মাসেই আয়োজনের পরিকল্পনা করছে সরকার। একই লক্ষ্য অর্জনে এইচএসসি পরীক্ষাও এগিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষাক্রম শেষ হওয়ার পরপরই পরীক্ষা এবং দ্রুত ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে আমূল পরিবর্তন আনার এই মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি নীতিমালা সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, বিদ্যমান পদ্ধতিতে পরীক্ষার পর ফলাফল প্রকাশ এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির মধ্যবর্তী দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানের কারণে শিক্ষার্থীরা প্রায় এক বছর পিছিয়ে পড়ছে, যা জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শিক্ষামন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, গত বছরের এইচএসসি পরীক্ষা জুন মাসে শুরু হয়ে অক্টোবর মাসে ফলাফল প্রকাশিত হয়েছিল। সেই পরীক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় ভর্তির পরীক্ষা হয়েছে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষা চলছে। অর্থাৎ, একজন শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করতে এক বছরেরও বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। এই দীর্ঘসূত্রতা শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে মূল্যবান সময় কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি সেশনজটকে প্রকট করছে।

মন্ত্রণালয়ের এই নতুন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো ‘স্কুইজিং’ বা সময়ের সঠিক সমন্বয়। মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, দুই বছরের শিক্ষাক্রম দুই বছরেই শেষ করতে হবে। সিলেবাস সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই পরীক্ষা গ্রহণ এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করে দ্রুত ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এর ফলে শিক্ষার্থীরা কোনো দীর্ঘ বিরতি ছাড়াই পরবর্তী স্তরের শিক্ষা শুরু করতে পারবে, যা তাদের একাডেমিক মানোন্নয়নে সহায়ক হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কোচিং সেন্টারের ওপর শিক্ষার্থীদের নির্ভরতা অনেকাংশেই কমে আসবে। সাধারণত পরীক্ষার পর ভর্তির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার সময়ে শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারের দিকে ঝুঁকে পড়ে। নতুন নিয়মে পরীক্ষা এবং ভর্তির মাঝে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিরতি না থাকলে শিক্ষার্থীরা সরাসরি মূলধারার পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, এই সমন্বয় প্রক্রিয়া সফল করতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে সরকার। বোর্ড বা প্রশাসনিক কোনো অবহেলার কারণে যেন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচিকেও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের একাডেমিক ক্যালেন্ডারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিস্তারিত রোডম্যাপ নিয়ে বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে প্রতিদিন কাজ চলছে। দ্রুতই এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা এবং সময়সূচি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন মন্ত্রী। শিক্ষাব্যবস্থার এই সংস্কার কার্যকর হলে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে এক নতুন যুগের সূচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে সেশনজটমুক্ত ও সময়োপযোগী শিক্ষাজীবন নিশ্চিত হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ