জাতীয় ডেস্ক
আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার নতুন কারিকুলাম বা শিক্ষাক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য নিরসন এবং সব স্তরের কারিকুলামে সমান্তরাল মান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে নরসিংদী শহরের বাসাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি নরসিংদী শিশু একাডেমিতে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
শিক্ষাক্রম সংস্কার ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিদ্যমান শিক্ষাক্রমের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন এই শিক্ষাক্রমের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধার সমান্তরাল বিকাশ নিশ্চিত করা, যাতে কোনো অঞ্চলের বা কোনো স্তরের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে না থাকে। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এই নতুন রূপরেখা তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।
শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ নীতিমালায় পরিবর্তন শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের দক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের মূল্যায়নের পদ্ধতিতে আমরা বড় ধরনের পরিবর্তন আনছি। বিশেষ করে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তিনি ঘোষণা দেন যে, ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ এবং যথাযথ যোগ্যতা অর্জন ছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।
প্রতিমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন একটি নীতিমালা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই নীতিমালা অনুযায়ী, কেবল নির্ধারিত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই শিক্ষকতার পেশায় আসার সুযোগ পাবেন। দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমেই কেবল শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ এবং শিক্ষার মান নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও মনিটরিং দেশের বিশাল প্রাথমিক শিক্ষা খাতের সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ৬৫ হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে এবং সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজারের অধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাথমিক পর্যায়ের পাঠদান পরিচালনা করছে। এত বিশাল সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের জন্য শিক্ষক নীতিমালা বা প্রশাসনিক সংস্কার এক রাতের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এটি একটি সুপরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া।
তিনি বলেন, “আমরা ধাপে ধাপে প্রতিটি সমস্যার সমাধান করছি। শিক্ষকদের বেতন কাঠামো, পদোন্নতি এবং সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি তাদের কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। পেশাগত জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার আমূল পরিবর্তন ঘটানো হবে।” সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাখাতে একটি টেকসই এবং ইতিবাচক রূপান্তর ঘটবে বলে তিনি মনে করেন।
সাংস্কৃতিক ও জাতীয় চেতনা স্কুল পরিদর্শনের আগে প্রতিমন্ত্রী নরসিংদী শিশু একাডেমিতে ‘একাত্তরের মহান স্বাধীনতা ও চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের ধারাবাহিকতায় এক সুরে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস এবং জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দেশ গড়ার আহ্বান জানান। শিশুদের নৈতিক ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, কেবল পাঠ্যপুস্তক নয়, বরং সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমেই আগামীর প্রজন্মকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
প্রতিমন্ত্রীর নরসিংদী সফরকালে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধি এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বিদ্যালয়ের পাঠদান পদ্ধতি এবং অবকাঠামোগত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।


