জাতীয় ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকার টাকা ছাপিয়ে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অর্থায়ন করবে না। এই উদ্যোগ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বিধায় বাজারে মুদ্রাস্ফীতির কোনো আশঙ্কা নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই এই কার্ডের মূল লক্ষ্য। তবে এই জনহিতকর কাজ করতে গিয়ে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বা আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে দেওয়া হবে না।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দীর্ঘদিনের ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়ন কাঠামোর সীমাবদ্ধতাগুলো তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, কর্মসংস্থান, উন্নত চিকিৎসা এবং শিক্ষার সুযোগের খোঁজে সারা দেশ থেকে মানুষের রাজধানীমুখী হওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে সরকার বিকেন্দ্রীকরণের একটি দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রতিটি প্রশাসনিক বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে এই জনস্রোত নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
তিনি জানান, রাজধানীর ওপর চাপ কমাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আধুনিক চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র এবং মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এর ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের নিজস্ব এলাকায় থেকেই আধুনিক জীবনের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন, যা জাতীয় উন্নয়নকে আরও টেকসই করবে।
রাজধানী ঢাকাকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সরকারের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ঢাকাকে ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন সিটি’ হিসেবে রূপান্তরের লক্ষে দুই সিটি করপোরেশনের গৃহীত কার্যক্রমের বিবরণ দেন। নগরীর পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশক নিধন কার্যক্রমকে নিয়মিত ও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণের একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বনায়ন কর্মসূচি নগরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বায়ুদূষণ রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


