রাজনীতি ডেস্ক
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্টদের প্রতি কঠোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদ, বিদেশে বাড়ি কেনা এবং নিয়োগ-বদলিতে অনিয়ম সংক্রান্ত প্রচারণাকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন।
বিবৃতিতে আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, একটি নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এবং কিছু সংবাদমাধ্যম পরিকল্পিতভাবে তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে মানহানিকর সংবাদ প্রচার করছে। বিশেষ করে রাজধানীর ইস্কাটনে এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর মালিকানাধীন বাড়ি থাকার যে দাবি করা হয়েছে, সেটিকে সম্পূর্ণ অসত্য আখ্যা দিয়ে তিনি এর সপক্ষে নথিপত্র প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “যদি কোনো একটি অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ দেওয়া সম্ভব হয়, তবে আমি সব দায়ভার মাথা পেতে নেব।”
অভিযোগের ধরনে আমূল পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে সাবেক এই উপদেষ্টা জানান, অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে ১৫ হাজার কোটি টাকা পাচারের দাবি করা হলেও পরবর্তীতে তা কমিয়ে ১০০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে নামিয়ে আনা হয়েছে। বিশেষ করে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা খণ্ডন করে তিনি আইন মন্ত্রণালয়ের পূর্ববর্তী দাপ্তরিক বিবৃতির সূত্র প্রদান করেন। তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে কোনো ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ বা আর্থিক সংশ্লিষ্টতা ছিল না।
বিচার বিভাগ, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং রিক্রুটিং এজেন্ট সংক্রান্ত অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তথ্যের কোনো উৎস বা অকাট্য প্রমাণ ছাড়াই দিনের পর দিন কাল্পনিক সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। তাঁর মতে, গত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব পালনের কারণেই একটি পক্ষ তাঁকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।
ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও চারিত্রিক সততার প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক নজরুল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারে বসবাস এবং সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির গল্প সাজানো হচ্ছে। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিচারিক প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা এবং বিপক্ষ শক্তির প্রভাবের কথা বিবেচনা করে তিনি মামলা বা প্রেস কাউন্সিলে যাওয়ার পরিবর্তে জনসমক্ষেই এর প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক শীর্ষ নীতি-নির্ধারকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযোগ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক সংস্কার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অধ্যাপক নজরুলের এই প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ অভিযোগকারী পক্ষগুলোর পেশাদারিত্ব ও তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। এর ফলে আগামী দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারার সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


