পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত: এনপিটি সম্মেলনে সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর আহ্বান

পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত: এনপিটি সম্মেলনে সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর আহ্বান

জাতীয় ডেস্ক

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়তে বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) ১১তম পর্যালোচনা সম্মেলনের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। বুধবার সরকারি এক তথ্যবিবরণীর মাধ্যমে বাংলাদেশের এই অবস্থানের কথা বিস্তারিত জানানো হয়।

রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার আট দশক পার হলেও পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের স্বপ্ন এখনো অধরা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অব্যাহত পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি কেবল সামরিক ভারসাম্য নষ্ট করছে না, বরং বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। তিনি সতর্ক করেন যে, পারমাণবিক প্রতিযোগিতার ফলে সৃষ্ট অস্থিরতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তাকে অনিশ্চিত করে তুলছে।

বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরে পারমাণবিক ও প্রচলিত—উভয় ধরনের অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে আন্তর্জাতিক মহলে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে আসছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলোর সান্নিধ্যে অবস্থান করা সত্ত্বেও বাংলাদেশ স্বেচ্ছায় অ-পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে থাকার নীতিগত সিদ্ধান্ত বজায় রেখেছে। রাষ্ট্রদূতের ভাষ্যমতে, এই অবস্থান শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী সাংবিধানিক ও নৈতিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

সম্মেলনে এনপিটি চুক্তির অনুচ্ছেদ ৬-এর বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। রাষ্ট্রদূত পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রগুলোকে এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের আইনগত বাধ্যবাধকতা দ্রুত পূরণের দাবি জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তিসমূহকে কেবল কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে সেগুলোর সর্বজনীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পারমাণবিক প্রযুক্তি যেন কেবল শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

বক্তব্যের শেষাংশে সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী গঠনমূলক সংলাপ, পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশ একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমান অস্থিতিশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে পারমাণবিক হুমকি প্রশমনই দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার একমাত্র পথ।

এনপিটি পর্যালোচনা সম্মেলনে বাংলাদেশের এই অবস্থান বিশ্বদরবারে দেশটির শান্তিকামী ভাবমূর্তি আরও সুসংহত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশের এই স্পষ্ট বক্তব্য পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর ওপর নৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে, যা নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হতে পারে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থিতিশীল এবং অস্ত্রহীন বিশ্ব বিনির্মাণে বাংলাদেশের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ