জাতীয় ডেস্ক
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে দ্বিতীয় দিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আজ ১৪ মে সকাল থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ২৪ মে’র আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন যাত্রীরা। রেলওয়ের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৮ মে সম্ভাব্য ঈদুল আজহা ধরে এই বিশেষ টিকিট বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সারাদেশে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলীয় জোনের টিকিট বিক্রিতে ভিন্ন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে এবং দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে পূর্বাঞ্চলের টিকিট বিক্রি। যাত্রী ভোগান্তি কমাতে এবং কালোবাজারি রোধে এবারও শতভাগ টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ের ঈদ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৩ মে শুরু হয়েছে অগ্রিম টিকিট বিক্রি। ১৩ মে বিক্রি হয়েছে ২৩ মে’র টিকিট। পর্যায়ক্রমে আগামীকাল ১৫ মে বিক্রি হবে ২৫ মে’র টিকিট, ১৬ মে ২৬ মে’র এবং ১৭ মে বিক্রি করা হবে ২৭ মে’র টিকিট। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ২৮, ২৯ ও ৩০ মে’র টিকিট বিক্রির তারিখ পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে।
টিকিট প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কিছু বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। একজন যাত্রী জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সর্বোচ্চ একবার টিকিট ক্রয় করতে পারবেন এবং প্রতি ক্ষেত্রে সর্বাধিক চারটি টিকিট কেনা যাবে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে কেনা এসব অগ্রিম টিকিট কোনোভাবেই ফেরত বা রিফান্ডযোগ্য হবে না।
রেলওয়ের তথ্যমতে, অনলাইনের পাশাপাশি সাধারণ ও নিম্ন আয়ের যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে প্রতিটি ট্রেনের মোট আসনের (উচ্চ শ্রেণি ব্যতীত) ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট বা আসনবিহীন টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে এই টিকিট যাত্রার দিন সংশ্লিষ্ট স্টেশনের কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
রেলওয়ের এই আগাম প্রস্তুতি মূলত মহাসড়কে যানজট এড়ানো এবং যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। ঈদে যাত্রীচাপ সামলাতে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন এবং বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেল প্রশাসন। টিকিট বিক্রির পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে কারিগরি দল সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে, যাতে সার্ভারে অতিরিক্ত চাপের কারণে যাত্রীরা বিভ্রাটের সম্মুখীন না হন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদযাত্রায় ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় রোধে এবং নির্ধারিত সময়ে ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ তদারকি সেল গঠন করা হয়েছে। বিশেষ করে যমুনা সেতু ও বঙ্গবন্ধু রেল সেতু সংলগ্ন রুটগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। এবারের ঈদযাত্রায় রেলের এই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটা লাঘব করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


