ক্রীড়া ডেস্ক
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ইতিহাসে একই আসরে দুই ওপেনারের ৭০০ বা তার বেশি রান সংগ্রহের এক অনন্য কীর্তি গড়েছেন গুজরাট টাইটান্সের শুবমান গিল ও সাই সুদর্শন। টুর্নামেন্টের চলতি আসরে গিলের সংগ্রহ ৭২২ রান এবং সুদর্শনের ব্যাটে এসেছে ৭১০ রান। তবে ব্যাট হাতে এমন দুর্দান্ত ফর্মে থাকার পরও তরুণ ব্যাটার সাই সুদর্শন বর্তমানে ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনায় এসেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এক অদ্ভুত রেকর্ডের কারণে। টুর্নামেন্টের পরপর দুই গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচে একইভাবে ‘হিট উইকেট’ হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
ক্রিকেটীয় পরিভাষায় ‘হিট উইকেট’ অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত এক আউটের পদ্ধতি। কিন্তু সুদর্শন টানা দুই ম্যাচে বাউন্ডারি মারার পর নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অথবা হাত থেকে ব্যাট ফসকে গিয়ে স্টাম্পে আঘাত করে আউট হয়েছেন। প্রথম কোয়ালিফায়ারে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) বিপক্ষে চার মারার পর তার হাতের ব্যাট ফসকে স্টাম্পে আঘাত করে। এরপর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষেও ৫৮ রানে ব্যাটিং করার সময় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। শট খেলার পর আবারও ব্যাট ফসকে স্টাম্পে লাগলে তিনি হিট উইকেট হন।
আইপিএলের ইতিহাসে এটিই প্রথম নয়, এর আগে ২০২২ সালের আসরে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার কাইরন পোলার্ডের বলেও একইভাবে আউট হয়েছিলেন সুদর্শন। ফলে আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তিনবার হিট উইকেট হওয়ার এক বিরল ও অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে নাম জুড়লো এই ভারতীয় ক্রিকেটারের।
টানা দুই ম্যাচে একই ধরনের আউট নিয়ে ক্রিকেট বিশ্লেষক ও ধারাভাষ্যকারদের মাঝে ব্যাপক বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় সাই সুদর্শন নিজের ব্যাটিং টেকনিক ও ব্যাটের গ্রিপ নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের আউটের পুনরাবৃত্তি এড়াতে তিনি গ্রিপে পরিবর্তন আনবেন এবং আরও সতর্ক থাকবেন বলে উল্লেখ করেন। দলটির অধিনায়ক শুবমান গিলও এই ঘটনাকে অবিশ্বাস্য ও নজিরবিহীন আখ্যা দিয়েছেন।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শট খেলার পর ব্যাটারের অতিরিক্ত ফলো-থ্রু অথবা হাতের তালুর ঘাম বা দুর্বল গ্রিপের কারণে ব্যাট ফসকে যাওয়ার এই ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এই অদ্ভুত আউট সুদর্শনের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। গিলের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে তার ধারাবাহিক ব্যাটিং গুজরাটকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে মূল ভূমিকা পালন করছে। টেকনিক্যাল এই ত্রুটি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারলে সুদর্শন আগামী ম্যাচগুলোতে আরও কার্যকারিতা দেখাতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


