জাতীয় ডেস্ক
দীর্ঘ ১৭ বছর পর স্বচ্ছন্দ ও প্রতিবন্ধকতাহীন পরিবেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী পালন করতে পারায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (৩০ মে) জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে শেরেবাংলা নগরে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিগত দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে নানা ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতার কারণে এই দিনটি স্বাভাবিকভাবে পালন করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় পর এবার দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অনেক বেশি স্বাধীন এবং উন্মুক্ত পরিবেশে সাবেক এই রাষ্ট্রপ্রধানকে স্মরণ করার সুযোগ পেয়েছেন। এই অনুকূল পরিবেশ দেশের রাজনৈতিক চর্চায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন নির্দেশ করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রীয় অবদান স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় আধুনিকতা ও সুশাসনের প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করেছিলেন জিয়াউর রহমান। বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্বনির্ভর অর্থনীতির যে দর্শন তিনি প্রবর্তন করেছিলেন, তা সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে এবং দেশের টেকসই উন্নয়নে এখনো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। দলীয় আদর্শিক ধারাবাহিকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের সেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পথনির্দেশনা অনুসরণ করেই বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দল পরিচালনা করছেন এবং সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইঙ্গিত দেন যে, বর্তমানে দেশে যে রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যক্রমের প্রক্রিয়া চলছে, তার মূল ভাবধারা মূলত জিয়াউর রহমানের বহুমাত্রিক রাষ্ট্রচিন্তা এবং উন্নয়ন ভাবনার আলোকেই পরিচালিত হচ্ছে। জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে লক্ষ্য, তা অর্জনে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ভবিষ্যতেও তার প্রদর্শিত পথ ও আদর্শকে ধারণ করেই দলীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।


