কক্সবাজারে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

কক্সবাজারে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

অপরাধ ডেস্ক

কক্সবাজার সদরে এক স্কুলছাত্রীকে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি রিয়াজ উদ্দিন আরফাতকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১৫)। গতকাল ৬ জুন রাতে জেলা শহরের কলাতলী রোড এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রিয়াজ উদ্দিন আরফাত কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিলংজা ঝিরঝিরি পাড়া এলাকার বাসিন্দা।

র‌্যাব-১৫-এর সহকারী পরিচালক আ ম ফারুক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৫-এর কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন সদর কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল কলাতলী রোডস্থ ‘আলগনি হোটেল’ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর পলাতক আসামি রিয়াজ উদ্দিন আরফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে কক্সবাজার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সে স্কুলে যাতায়াতের সময় ঝিলংজা এলাকার বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন আরফাত তাকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করার পাশাপাশি প্রলোভন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন আসছিল। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, ওই কিশোরী প্রায় ২৮ সপ্তাহের গর্ভবতী।

এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর অংশ হিসেবে র‌্যাব-১৫ ঘটনার ছায়াতদন্ত এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় বাহিনীটি।

আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের ওপর এ ধরনের অপরাধ দেশের প্রচলিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০)-এর অধীনে অত্যন্ত গুরুতর এবং অজামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এ ধরনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে। প্রত্যন্ত ও পর্যটন এলাকাগুলোতে কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা ও অন্যান্য আইনি কার্যক্রম যথাযথ নিয়ম মেনে সম্পন্ন করা হচ্ছে। এলাকায় এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ