অপরাধ ও বিচার ডেস্ক
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় প্রধান দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রবিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই সর্বোচ্চ শাস্তির নির্দেশ দেন।
এই রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি এই রায়কে বাংলাদেশের বিচারিক প্রক্রিয়ার ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক ‘মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, শিশু রামিসা আক্তারকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল। এই জঘন্য অপরাধের পর দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা থেকে শুরু করে বিচার বিভাগ ও প্রসিকিউশন দল—রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গ অত্যন্ত সক্রিয় ও সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। রাষ্ট্রের সব যন্ত্র সুচারুভাবে কাজ করার কারণেই এত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই জটিল মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
আইন ও বিচার বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল মামলাগুলোর বিচার দীর্ঘায়িত হওয়ার একটি প্রবণতা অতীতে দেখা গেছে। তবে এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং চূড়ান্ত রায় ঘোষণার মধ্যবর্তী সময়টি ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। এই দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়াটি দেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, এত কম সময়ের মধ্যে শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার বিচার সম্পন্ন করার মাধ্যমে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কঠোর ও দ্রুত রায় সমাজে শিশু নির্যাতন এবং জঘন্য অপরাধ দমনে একটি শক্তিশালী প্রতিবন্ধক বা বার্তা হিসেবে কাজ করবে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, রাজধানীর মিরপুর এলাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিল করে। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ফরেনসিক আলামত উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়, যার ভিত্তিতে আদালত এই যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন। উচ্চ আদালতেও যেন এই রায় বহাল থাকে, সে লক্ষ্যে রাষ্ট্রপক্ষ তৎপর থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


