জাতীয় ডেস্ক
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় (৭ জুন) কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তাদের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। নিহতরা হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম এবং একই জেলার আশাশুনি উপজেলার কাদাকটি গ্রামের মো. নাহিদুল ইসলাম।
বিমানবন্দরে নিহতদের কফিন গ্রহণ করতে আসেন শোকার্ত স্বজনরা। এ সময় সরকারের পক্ষে মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাব গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি আর্থিক সহায়তা হস্তান্তর করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, লেবাননে চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত ১০ জন প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। যার মধ্যে সাতজনের মরদেহ ইতিমধ্যে সরকারি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাকি তিনজনের মরদেহ দেশে স্থানান্তরের জন্য বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা সম্পন্ন করার সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এর আগে গত ১১ মে স্থানীয় সময় দুপুরে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলার জিবদিন এলাকায় একটি আবাসস্থল লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ড্রোন হামলা চালালে কর্মব্যস্ত শফিকুল ও নাহিদুল ঘটনাস্থলেই নিহত হন। বৈরুতের রফিক হারিরি হাসপাতালের মর্গে তাদের মরদেহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য সংরক্ষিত ছিল। বাংলাদেশ দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় পুলিশ প্রতিবেদন, অনাপত্তি সনদ এবং আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর মরদেহ দুটি বৈরুত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়।
সংঘাত কবলিত লেবাননে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রবাসী নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং সংকটে পড়া অভিবাসীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে লেবাননে আটকে পড়া এবং পাসপোর্ট বা ভিসা জটিলতায় ভুগতে থাকা অন্যান্য বাংলাদেশি শ্রমিকদের আইনি সহায়তা ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের বিষয়েও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি রাতেই তাদের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের সমাহিত করা হবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই সহিংসতায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্বিচার হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে।


