ট্রাম্পের অনুরোধ উপেক্ষা করে ইরানে ইসরায়েলের পাল্টা হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে

ট্রাম্পের অনুরোধ উপেক্ষা করে ইরানে ইসরায়েলের পাল্টা হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি অনুরোধ উপেক্ষা করে ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলি অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে গত রবিবার ইসরায়েল অভিমুখে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তেল আবিবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এই হামলার ফলে তিন মাস ধরে চলা ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং গত এপ্রিল মাসে অর্জিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী পশ্চিম ও মধ্য ইরানের কৌশলগত সামরিক অবকাঠামো ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে এই জোরালো হামলা চাায়। হামলার পরপরই ইরানের রাজধানী তেহরান, তাবরিজ এবং ইসফাহানের আকাশসীমায় দফায় দফায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিস্ফোরণের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তেহরানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ বা প্রাণহানির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে তেহরানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত নিরসনে এবং দুপক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনা প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখতে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আন্তর্জাতিক আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্য জোরালো অনুরোধ জানিয়েছিলেন। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, তারা একটি সামগ্রিক শান্তি চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে, যেখানে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু ওয়াশিংটনের সেই যুদ্ধবিরতির আহ্বান এবং কূটনৈতিক কৌশলকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে ইসরায়েল এই আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উপেক্ষা করে ইসরায়েলের এই একতরফা পদক্ষেপ ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন জটিলতা তৈরি করল। একই সঙ্গে এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক নেতৃত্ব ইতিমধ্যে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ডে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের কঠোর ও দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যে তাৎক্ষণিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন ও বিমান চলাচল খাত নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অচলাবস্থা কাটানো এবং নতুন করে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বিষয়টি এখন চরম অনিশ্চয়তার আবর্তে নিমজ্জিত।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ