ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল পর্ব শুরু হতে যখন মাত্র কয়েকদিন বাকি, তখন শিরোপা ধরে রাখার মিশনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ইনজুরি বা শারীরিক চোটের কারণে দলটির বিশ্বকাপ স্কোয়াডের অন্তত সাতজন ফুটবলার বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এর ফলে আসন্ন টুর্নামেন্টে তাদের অংশগ্রহণ এবং দলের সার্বিক শক্তি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দলের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কোচিং স্টাফ ও ফুটবলারদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচের অংশ হিসেবে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হন্ডুরাসের মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে জয় পেলেও দলের মূল খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এখনও শতভাগ শারীরিক সক্ষমতা ফিরে পাননি।
কোচ লিওনেল স্কালোনি জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এখনই কোনো চূড়ান্ত বা তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসেনি। তিনি উল্লেখ করেন, সমস্যাটি কেবল দলের রক্ষণভাগের একজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে কেন্দ্র করে নয়, বরং মাঠের বিভিন্ন পজিশনের একাধিক খেলোয়াড়কে নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টকে বিকল্প ভাবতে হচ্ছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দলটির সামনে আরও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ রয়েছে। সেই ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থার মাঠপর্যায়ের মূল্যায়ন করা হবে। আগামী মঙ্গলবারের আগে স্কোয়াডে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া সম্ভব নয় বলে কোচ নিশ্চিত করেছেন।
আর্জেন্টাইন শিবিরে ইনজুরির এই ধাক্কা শুরু হয় হন্ডুরাস ম্যাচের আগের দিন থেকে। কাফ ইনজুরি বা পায়ের পেশির গুরুতর ক্ষতের কারণে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে সম্পূর্ণ ছিটকে গেছেন রক্ষণভাগের নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় লিওনার্দো বালের্দি। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে তার এই ছিটকে যাওয়া দলের রক্ষণভাগকে দুর্বল করে তুলেছে। তবে বালের্দির পরিবর্তে কাকে দলে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোচ লিওনেল স্কালোনি এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিস্থাপনের নাম ঘোষণা করেননি।
দলের রক্ষণভাগ এবং মধ্যমাঠের সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে একাধিক প্রথম সারির খেলোয়াড়ের একই সাথে ইনজুরিতে পড়ার কারণে। স্কোয়াডের দুই নিয়মিত রাইটব্যাক গঞ্জালো মন্তিয়েল এবং নাহুয়েল মলিনা উভয়েই মাংসপেশির চোটে ভুগছেন। আধুনিক ফুটবলে উইং-ব্যাকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই দুই ফুটবলারের ইনজুরি দলের আক্রমণ ও রক্ষণ উভয় বিভাগেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর পাশাপাশি, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের অন্যতম মধ্যমাঠের চালিকাশক্তি লিয়ান্দ্রো পারেদেস গ্রেড-১ পর্যায়ের মাংসপেশির ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এই ধরনের চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে সাধারণত নির্দিষ্ট সময় ধরে পুনর্বাসনের প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে, আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ আঙুলের প্রদাহ বা ইনফেকশনে ভুগছেন। তবে টিম মেডিকেল টিমের ধারণা, মূল পর্বের ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই তিনি মাঠে নামার মতো ফিটনেস ফিরে পাবেন।
আর্জেন্টিনার জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের গোলপোস্টের নিচে প্রধান বিশ্বস্ত নাম এমিলিয়ানো মার্টিনেজের শারীরিক অবস্থা। সদ্য সমাপ্ত ঘরোয়া মৌসুমের শেষ দিকে ক্লাব ফুটবলে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেলেও, ডান হাতের আঙুলের চিড় থেকে তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। গোলরক্ষকের হাতের চোট দলের জন্য একটি বড় ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়। এর পাশাপাশি, দলের তরুণ এবং সম্ভাবনাময় মিডফিল্ডার নিকো পাজ বাম পায়ের ব্যথার কারণে দলের নিয়মিত অনুশীলনে পূর্ণ মাত্রায় অংশ নিতে পারছেন না।
বিশ্বকাপের মতো একটি দীর্ঘ এবং উচ্চ তীব্রতার টুর্নামেন্টে শিরোপা ধরে রাখতে হলে প্রতিটি দলেরই পূর্ণ শক্তির স্কোয়াড এবং ব্যাক-আপ খেলোয়াড়দের প্রস্তুত থাকা আবশ্যক। সেখানে আর্জেন্টিনার মতো ফেভারিট দলের সাতজন মূল খেলোয়াড় একসঙ্গে ইনজুরিতে পড়া কৌশলগতভাবে দলটিকে বেশ পিছিয়ে দিতে পারে। খেলোয়াড়দের এই দীর্ঘ চোটের তালিকা আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুম এবং মেডিকেল টিমকে অতিরিক্ত চাপে ফেলেছে। আগামী কয়েকদিনের চিকিৎসकीय প্রতিবেদন এবং পরবর্তী প্রস্তুতি ম্যাচের পারফরম্যান্সের ওপরই নির্ভর করছে আলবিসেলেস্তেরা কেমন দল নিয়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে যাত্রা শুরু করবে।


