অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন চলছে। লেনদেন শুরুর প্রথম এক ঘণ্টায় বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা দিলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রির চাপে প্রধান সূচকসহ বাকি সূচকগুলো নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। তবে এই পতন সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও বাজার সচলতার কারণে লেনদেনের গতি স্বাভাবিক রয়েছে।
আজ সোমবার সকাল ১০টায় যথারীতি লেনদেন শুরু হওয়ার পর প্রথম দিকে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। ক্রেতাদের সক্রিয়তায় সূচক কিছুটা বাড়লেও সেই ধারা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুনাফা লভ্যাংশের উদ্দেশ্যে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়লে বাজার পতনের মুখে পড়ে। লেনদেন শুরুর প্রথম ৬২ মিনিট, অর্থাৎ সকাল ১১টা ২ মিনিট পর্যন্ত ডিএসইতে মোট ৩৩২ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট হাতবদল হয়েছে।
বাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১১ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫০৪ দশমিক ৪৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। শরীয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস ৩ দশমিক ৭০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১১১ দশমিক ৮৩ পয়েন্টে এবং বাছাইকৃত ৩০টি ব্লু-চিপ কোম্পানির সূচক ডিএস৩০ ১০ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে ২ হাজার ৭৬ দশমিক ২৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
উক্ত সময়ে ডিএসইতে মোট ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১১৪টি কোম্পানির, হ্রাস পেয়েছে ২০১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৭৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর।
লেনদেনের শুরুর দিকে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের শীর্ষে ছিল কয়েকটি নির্দিষ্ট খাতের কোম্পানি। এর মধ্যে এনসিসি ব্যাংকের ১০ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে। এছাড়া শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে জেনেক্স ইনফোসিসের ৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের ৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, সোনারগাঁ টেক্সটাইলের ৭ কোটি ৭ লাখ টাকা, বিডি থাই ফুডের ৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা, আইপিডিসির ৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং আরডি ফুডের ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক অস্থিরতা কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করায় বিক্রির চাপ বেড়ে সূচক সংশোধন হচ্ছে। তবে লেনদেনের পরিমাণ ৩০০ কোটি টাকা ছাড়ানো ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয় যে বাজারে তারল্য প্রবাহ বজায় রয়েছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার লেনদেনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা বাজারকে স্থিতিশীল করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


