রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের চার বছর পর সরাসরি সংলাপের প্রস্তাব পশ্চিমা মিত্রদের, প্রত্যাখ্যান মস্কোর

রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের চার বছর পর সরাসরি সংলাপের প্রস্তাব পশ্চিমা মিত্রদের, প্রত্যাখ্যান মস্কোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর চার বছরেরও বেশি সময় পর সংঘাত নিরসনে একটি নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ সামনে এসেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সরাসরি সংলাপের প্রস্তাবকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি। তবে ক্রেমলিন তাৎক্ষণিকভাবে এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা বৈঠকে এই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ অংশ নেন। বৈঠক শেষে তিন দেশের শীর্ষ নেতারা একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেন।

যৌথ বিবৃতিতে বিশ্বনেতারা জানান, একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং পরবর্তী শান্তি প্রক্রিয়াকে ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি শীর্ষ বৈঠক আয়োজন জরুরি। এই প্রক্রিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মধ্যস্থতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার প্রাথমিক ভিত্তি হওয়া উচিত যুদ্ধের ‘বর্তমান যোগাযোগ রেখা’ বা নিয়ন্ত্রণ রেখা। তবে নেতারা দৃঢ়ভাবে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দেশের সীমান্ত জোরপূর্বক পরিবর্তন করা গ্রহণযোগ্য নয়।

এই শীর্ষ বৈঠকের আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে মুখোমুখি বৈঠকের একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত প্রস্তাব পাঠান। তবে মস্কো এই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, একটি টেকসই ও গ্রহণযোগ্য শান্তিচুক্তির খসড়া বা রূপরেখা চূড়ান্ত হওয়ার আগে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কোনো শীর্ষ বৈঠকে বসার যৌক্তিকতা দেখছে না ক্রেমলিন।

সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর ইউক্রেনীয় পক্ষ থেকে বিকল্প কূটনৈতিক পথ ব্যবহারের তথ্য জানানো হয়েছে। পুতিনের কাছে ইউক্রেনের অবস্থান ও বার্তা পৌঁছে দিতে কিয়েভ ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি কিয়েভে রুশ ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠকে মিলিত হন। উল্লেখ্য, ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর ক্রেমলিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে আব্রামোভিচ যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন।

উক্ত বৈঠকের মাধ্যমে জেলেনস্কি মস্কোকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, ইউক্রেন নিজেদের সার্বভৌম ভূখণ্ড রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কোনো অবস্থাতেই রাশিয়ার বিজয় মেনে নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধ বন্ধের শর্তাবলি নির্ধারণে পুতিনের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

বর্তমানে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই তীব্র সামরিক চাপের মুখে নিজেদের আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জরুরি সামরিক গোলাবারুদ সরবরাহের জন্য পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি ক্রমাগত আহ্বান জানিয়ে আসছে কিয়েভ। একই সঙ্গে, যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর বৈশ্বিক চাপ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউক্রেনীয় প্রশাসন বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ