খেলাধুলা ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই এক অপ্রত্যাশিত এবং বিচিত্র চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল সুইজারল্যান্ড। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টুর্নামেন্টের মূল মঞ্চে নামার আগে দলটির ক্যালিফোর্নিয়া শিবিরের অনুশীলনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিষধর সাপের উপদ্রব। যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোতে অবস্থিত দলটির প্রধান অনুশীলন ক্যাম্পের চারপাশের এলাকায় সাপের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় খেলোয়াড় এবং অফিশিয়ালদের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে সুইজারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে সাধারণত দলগুলোর প্রস্তুতি পরিক্রমায় স্থানীয় আবহাওয়া, দীর্ঘ ভ্রমণক্লান্তি কাটিয়ে ওঠা এবং প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা ও কৌশল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণই প্রাধান্য পেয়ে থাকে। তবে এবার সুইজারল্যান্ডের প্রস্তুতি কার্যক্রমে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও নতুন এক উপদ্রব হিসেবে যোগ হয়েছে এই সরীসৃপ আতঙ্ক।
সুইজারল্যান্ড জাতীয় দলের পক্ষ থেকে অনুশীলনের জন্য নির্ধারিত ‘সান ডিয়েগো জিউশ একাডেমি’র একটি নির্দিষ্ট মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত ওই মানচিত্রে অনুশীলন মাঠের একটি বড় অংশকে লাল রঙে চিহ্নিত করে ‘স্নেক জোন’ বা সাপের উপদ্রব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের বাড়তি নিরাপত্তার স্বার্থে মূল অনুশীলন মাঠ, গোলরক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ এলাকা, ব্যায়ামাগার (জিমনেসিয়াম) এবং খেলোয়াড়দের পোশাক পরিবর্তন কক্ষের (লকার রুম) চারপাশের সীমানায় বিশেষ সতর্কতামূলক চিহ্ন ও দিকনির্দেশনা সংবলিত বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফুটবলারদের কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা কোনো অবস্থাতেই ওই লাল চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ সীমানার ভেতরে প্রবেশ না করেন।
সান ডিয়েগো প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এই দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলটি অত্যন্ত বিষধর ঝনঝনে লেজওয়ালা সাপের (র্যাটলসনেক) চারণভূমি হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এই অঞ্চলে সাউথ প্যাসিফিক র্যাটলসনেক এবং রেড ডায়মন্ড র্যাটলসনেকসহ অন্তত চার প্রজাতির মারাত্মক বিষাক্ত সাপের উপদ্রব রয়েছে, যার একটিমাত্র দংশন মানুষের প্রাণের জন্য চরম সংশয় তৈরি করতে পারে।
সুইজারল্যান্ডের দলীয় প্রধান ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, এখন পর্যন্ত দলের কোনো খেলোয়াড় বা কর্মকর্তা সরাসরি কোনো সাপের মুখোমুখি হননি কিংবা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকার হননি। মূলত টুর্নামেন্ট শুরুর প্রাক্কালে যেকোনো ধরনের আকস্মিক ঝুঁকি এড়াতে এবং খেলোয়াড়দের শতভাগ সুরক্ষিত রাখতে স্থানীয় বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মাঠের অনুশীলনের সময় ফুটবলাররা যাতে বল কুড়াতে গিয়ে বা অসাবধানতাবশত মাঠের বাইরের ঝোপঝাড়ে বা দীর্ঘ ঘাসের এলাকায় চলে না যান, সে বিষয়ে শুরু থেকেই সবাইকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের সরীসৃপ নজরে আসবামাত্রই তা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘বি’-তে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গী হিসেবে রয়েছে স্বাগতিক কানাডা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং কাতার। আগামী ১৩ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার লিভাইস স্টেডিয়ামে কাতারের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে সুইসরা। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে মূলত শান্ত ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশে নিবিড় অনুশীলনের উদ্দেশ্যেই সান ডিয়েগোকে বেছে নিয়েছিল দলটি। তবে সাপের এই উপদ্রব মাঠের বাইরের আবহে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করলেও, দলটির মূল লক্ষ্য থেকে মনোযোগ বিচ্যুত করতে পারছে না। ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে আসা সুইস শিবিরের মূল লক্ষ্য এখন মানসিকভাবে চাঙা থেকে সফলভাবে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মেলে ধরা।


