পবিত্র হজ পালন শেষে ৬৪ হাজার ১৬৩ হাজি দেশে ফিরেছেন, প্রাণহানি ৫৪ জনের

পবিত্র হজ পালন শেষে ৬৪ হাজার ১৬৩ হাজি দেশে ফিরেছেন, প্রাণহানি ৫৪ জনের

জাতীয় ডেস্ক

পবিত্র হজ পালনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সৌদি আরব থেকে সফলভাবে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন বাংলাদেশি হাজিরা। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট ১৭০টি ফিরতি ফ্লাইটে ৬৪ হাজার ১৬৩ জন হাজি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। তবে চলতি হজ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৫৪ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ অফিস।

বুধবার প্রকাশিত হজ বুলেটিনের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ বিমান, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় হাজিদের ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম চলছে। এ পর্যন্ত পরিচালিত ১৭০টি ফিরতি ফ্লাইটের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সর্বোচ্চ ৮৯টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এছাড়া সৌদি আরব ভিত্তিক সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৫৯টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২২টি ফ্লাইটের মাধ্যমে হাজিদের দেশে ফিরিয়ে এনেছে।

হজ অফিসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশে ফিরে আসা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার অধীনে গেছেন ৪ হাজার ৩১৯ জন। অন্যদিকে, বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর ব্যবস্থাপনায় হজ পালন শেষে ফিরেছেন ৫৯ হাজার ৮৮৮ জন হাজি। বিমানবন্দরগুলোতে হাজিদের আগমনী আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

চলতি হজ মৌসুমে পবিত্র ভূমি সৌদি আরবে ৫৪ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী রয়েছেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, মক্কায় চিকিৎসাধীন বা অবস্থানকালে সবচেয়ে বেশি ৩৭ জন মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়। তবে এবার হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার স্থান মিনা বা মুজদালিফায় কোনো বাংলাদেশি হাজির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, সৌদি আরবেই আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

হজ বুলেটিনের স্বাস্থ্য ও সেবা সংক্রান্ত তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে, হজ চলাকালীন ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন এবং এর মধ্যে ১০ জন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। হাজিদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত সৌদি মেডিকেল সেন্টারগুলো থেকে এ বছর ৬৬ হাজার ৮৮০ জন বাংলাদেশি হাজিকে প্রাথমিক ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি, মক্কা ও মদিনায় স্থাপিত আইটি হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া হাজিদের খুঁজে বের করা এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাসহ মোট ২৮ হাজার ৩২৫ জন হাজিকে বিভিন্ন ডিজিটাল ও তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত সেবা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল প্রথম বহির্গামী ফ্লাইটের মাধ্যমে চলতি বছরের হজ পরিবহন কার্যক্রমের সূচনা হয়েছিল এবং ২১ মে প্রাক-হজ ফ্লাইট সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এরপর গত ২৬ মে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় সমাবেশ পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ৩০ মে থেকে শুরু হয় হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট। আগামী ১ জুলাই শেষ ফিরতি ফ্লাইটের মাধ্যমে চলতি বছরের সামগ্রিক হজ ব্যবস্থার সমাপ্তি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ