পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন ৬৬ হাজারের বেশি হাজি, মৃত্যু ৫৫ জনের

পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন ৬৬ হাজারের বেশি হাজি, মৃত্যু ৫৫ জনের

জাতীয় ডেস্ক

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত ১৮০টি ফিরতি ফ্লাইটে মোট ৬৬ হাজার ১৭৪ জন বাংলাদেশি হাজি দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৪৫৯ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ৬১ হাজার ৭১৫ জন হাজি রয়েছেন।

হজ বুলেটিনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ বছর হজ পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৫৫ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা গেছেন। এর মধ্যে পবিত্র মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৭ জন এবং জেদ্দায় একজন মৃত্যুবরণ করেন। তবে মিনা বা মুজদালিফায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাকি হাজিরা নির্ধারিত এয়ারলাইনসের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে দেশে ফিরবেন।

বাংলাদেশি হাজিদের ফিরিয়ে আনতে তিনটি এয়ারলাইনস মোট ১৮০টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৯৭টি ফ্লাইটে ৩০ হাজার ৫৭৩ জন, সৌদিয়া এয়ারলাইনস ৬১টি ফ্লাইটে ২২ হাজার ৭২৯ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৬৭২ জন হাজি পরিবহন করেছে। এছাড়া অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ৪ হাজার ২০০ জন হাজি।

এদিকে সৌদি আরবে হাজিদের চিকিৎসাসেবা ও সহায়তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বুলেটিনের তথ্যমতে, ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১০ জন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সৌদি মেডিক্যাল সেন্টারগুলো থেকে এ পর্যন্ত ৬৭ হাজার ৩৬ জন হাজিকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মক্কা ও মদিনার আইটি হেল্প ডেস্ক ২৮ হাজার ৩৮৩ জন হাজিকে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা দিয়ে সহায়তা করেছে।

চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন শিডিউল অনুযায়ী, গত ১৮ এপ্রিল প্রথম বহির্গামী ফ্লাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সৌদি আরব যাওয়ার কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২১ মে প্রাক-হজ ফ্লাইট সম্পন্ন হয়। এরপর ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে, যা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত চলমান থাকবে।

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জনসহ মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীর কোটা বরাদ্দ ছিল। অধিকাংশ হাজি সুষ্ঠুভাবে দেশে ফিরলেও শেষ মুহূর্তের ফ্লাইটগুলো সময়মতো সম্পন্ন করতে হজ অফিস এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ