খেলাধুলা ডেস্ক
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে দেশের ক্রিকেট-সংক্রান্ত যাবতীয় আর্থিক সহায়তা ও সুবিধা স্থগিত রাখার আবেদন করেছেন সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে বোর্ডের বৈধ সভাপতি হিসেবে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। তবে সম্প্রতি এক ভিডিওবার্তায় এই আবেদনের বিষয়টি তিনি প্রকাশ্যে অস্বীকার করেছেন, যা তার পাঠানো চিঠির অনুলিপির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম আইসিসির কাছে একটি ১৪ পৃষ্ঠার আইনি চিঠি পাঠান। চিঠিতে তিনি বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের বৈধতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আপত্তি তোলেন। আইসিসি বিষয়টি বিসিবিকে অবহিত করার পর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থাকে পাল্টা চিঠি দিয়েছে। তবে শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে এক ভিডিওবার্তায় আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটের ক্ষতি হতে পারে এমন কোনো অনুরোধ আইসিসিকে করেননি এবং অর্থায়ন বন্ধের খবরটি সত্য নয়।
গণমাধ্যমের কাছে আসা চিঠির অনুলিপিতে দেখা যায়, আমিনুল ইসলামের আইনি প্রতিনিধি প্রেরিত এবং তার স্বাক্ষরযুক্ত নথিতে বিসিবির অর্থায়ন ও ক্রিকেট-সংক্রান্ত সহায়তা স্থগিত রাখার সুস্পষ্ট অনুরোধ রয়েছে। চিঠির ‘পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আইসিসি তহবিল স্থগিতকরণ’ অংশে বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ আদালতের মামলার নিষ্পত্তি অথবা আইসিসি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির (ডিআরসি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিসিবির সব তহবিল শর্তসাপেক্ষে আটকে রাখা বা স্থগিত রাখতে হবে। বিশেষ করে, ২০২৬ সালের ৭ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ভিত্তিতে বিসিবির কর্তৃত্ব দাবি করা কোনো পক্ষকে তহবিল প্রদান না করার অনুরোধ করা হয়েছে।
চিঠির অপর অংশে বাংলাদেশ সরকার, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে (এনএসসি) একটি আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা জারির আহ্বান জানানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, একটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভোটার তালিকা তৈরি করে গত ৭ জুন সম্পন্ন হওয়া নির্বাচনটি আইসিসি সংবিধানের ২.৪(গ) ও ২.৪(ঘ) ধারার গুরুতর লঙ্ঘন। ফলে আইসিসি এই বোর্ডকে স্বীকৃতি না দিয়ে পূর্বের নির্বাচিত বোর্ডকে পুনর্বহালের দাবি জানাবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পুনর্বহালে ব্যর্থ হলে আইসিসির ২.১০(ক) ধারা অনুযায়ী বিসিবির পূর্ণ সদস্যপদ স্থগিতকরণ, তহবিল জব্দকরণ এবং বাংলাদেশকে আইসিসি ইভেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধও করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ জুন মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঢাকা ক্লাব ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পরিচালক হন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল এবং পরবর্তীতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চার বছরের জন্য বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হন। এর আগে গত এপ্রিল মাসে অনিয়মের অভিযোগে তৎকালীন সভাপতি আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছিল, যার ধারাবাহিকতায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর থেকেই আমিনুল ইসলাম নিজেকে বৈধ সভাপতি দাবি করে আসছেন। সাবেক সভাপতির এই পদক্ষেপের ফলে দেশের ক্রিকেট প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রিকেট সদস্যপদ নিয়ে নতুন আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


