তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ এক নির্দেশনায় অ্যানথ্রোপিককে এই বিশেষ অনুমতি প্রদান করে। এর ফলে আমেরিকার সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও স্পর্শকাতর জাতীয় অবকাঠামো নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদারে এই এআই মডেলটি প্রয়োগ করতে পারবে। মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে জাতীয় নিরাপত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর ঠিক দুই সপ্তাহ আগে, গত ১২ জুন জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনা করে ট্রাম্প প্রশাসন অ্যানথ্রোপিকের এই সর্বাধুনিক এআই মডেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তখন আকস্মিকভাবে ‘মাইথোস ৫’ এবং এর সাধারণ সংস্করণ ‘ফ্যাবল ৫’-এর কার্যক্রম সব ব্যবহারকারীর জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের আশঙ্কা ছিল, এই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রযুক্তি যদি চীন বা রাশিয়ার মতো দেশের সামরিক গোয়েন্দাদের হাতে পড়ে, তবে এর অপব্যবহারের মাধ্যমে আমেরিকার সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। বিশেষ করে মডেলটির কোডিং ও সাইবার দুর্বলতা শনাক্ত করার অসাধারণ ক্ষমতাকে বৈরী রাষ্ট্রগুলো সাইবার হামলার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছিল।
তবে সরকারের এমন কঠোর ও আকস্মিক নিষেধাজ্ঞার কারণে অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তি খাতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সিলিকন ভ্যালির অনেক বিশেষজ্ঞ এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতিকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ এবং ‘অবাধ উদ্ভাবনের অন্তরায়’ বলে সমালোচনা করেন। তাদের দাবি ছিল, যথাযথ আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এভাবে ঢালাও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে বিশ্ববাজারে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।
এই বিতর্কের মধ্যেই ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যাম অল্টম্যান মার্কিন সরকারের এই নীতিগত অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “প্রযুক্তির সুরক্ষামূলক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অবশ্যই ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু সরকার নিজেই যদি তালিকা তৈরি করে গ্রাহক বা ব্যবহারকারী নির্ধারণ করে দেয়, তবে সেই নিয়ন্ত্রণমূলক ধারণা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
নতুন এই নির্দেশনার আওতায় ঠিক কোন কোন কোম্পানি বা সংস্থাকে ‘মাইথোস ৫’ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, তা কৌশলগত কারণে এখনো গোপন রেখেছে মার্কিন প্রশাসন। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ফরচুন ৫০০ ভুক্ত শীর্ষ সারির কোম্পানিসহ ১০০টিরও বেশি বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট সংস্থা প্রাথমিকভাবে এই এআই মডেল ব্যবহারের জন্য ছাড়পত্র পেয়েছে।
অ্যানথ্রোপিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রেখে কীভাবে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে তারা ওয়াশিংটনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ ব্যবহারকারী এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় সচল করতে ‘মাইথোস ৫’ এবং ‘ফ্যাবল ৫’ মডেল দুটি যেন খুব দ্রুত বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে অবমুক্ত করা যায়, সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এ বিষয়ে মার্কিন সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে।


