অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
আগামী ১ জুলাই থেকে দেশের বাজারে আমদানিকৃত স্মার্টফোনের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। মোবাইল ফোন আমদানিতে সরকারের দেওয়া সাময়িক শুল্ক-সুবিধার মেয়াদ আগামী ৩০ জুন শেষ হতে চলায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নতুন করে এই সুবিধার মেয়াদ বৃদ্ধি করা না হলে আমদানি পর্যায়ে করভার প্রায় ২০ শতাংশের বেশি বেড়ে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে খুচরা বাজারে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে নতুন স্মার্টফোন কিনতে ক্রেতাদের আগের চেয়ে কয়েক হাজার টাকা অতিরিক্ত গুনতে হতে পারে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশের স্মার্টফোন বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতার নাগালের মধ্যে প্রযুক্তিপণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার সম্পূর্ণ তৈরি মোবাইল ফোন (সিবিইউ) আমদানির ক্ষেত্রে কাস্টমস ডিউটি বা আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে এনেছিল। এর ফলে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কসহ আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের মোট করভার ৪৩ দশমিক ৪৩ শতাংশে নেমে আসে। তবে এই বিশেষ শুল্ক-ছাড়ের মেয়াদ নির্দিষ্ট করা হয়েছিল ৩০ জুন পর্যন্ত।
মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমআইওবি) তথ্য অনুযায়ী, যদি সরকার এই শুল্ক-সুবিধার মেয়াদ আর বৃদ্ধি না করে, তবে ১ জুলাই থেকে পূর্বের শুল্ক কাঠামো পুনরায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। সে ক্ষেত্রে আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের ওপর সামগ্রিক করভার ৪৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ থেকে একলাফে বেড়ে ৬৪ দশমিক ২৫ শতাংশে পৌঁছাবে। এই অতিরিক্ত করভারের কারণে খুচরা বাজারে আমদানি করা প্রতিটি স্মার্টফোনের দাম গড়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ব্যবসায়ী ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, করের এই বড় ব্যবধান দেশের বৈধ মোবাইল আমদানিকারকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। শুল্ক বৃদ্ধির কারণে আমদানিকৃত হ্যান্ডসেটের দাম বেড়ে গেলে বৈধ বাজারের পরিধি সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে বাজারে অবৈধ বা গ্রে-মার্কেটের চোরাচালানকৃত ফোনের সরবরাহ বৃদ্ধি পেতে পারে, যা সরকারের রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে। মধ্যম ও উচ্চ সারির স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা, যারা মূলত আমদানিকৃত ডিভাইসের ওপর নির্ভরশীল, তারা সবচেয়ে বেশি আর্থিক চাপের মুখে পড়বেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন সংযোজন ও উৎপাদন শিল্পের বিকাশ ঘটলেও বেশ কিছু ফ্ল্যাগশিপ এবং উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন স্মার্টফোন এখনো সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে এই খাতের কর কাঠামোতে যেকোনো বড় পরিবর্তন সামগ্রিক প্রযুক্তি বাজারের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। ১ জুলাই থেকে নতুন কর নীতি কীভাবে কার্যকর হবে এবং সরকার এই বিষয়ে কোনো বিকল্প নির্দেশনা দেয় কি না, তার ওপরই এখন নির্ভর করছে দেশের স্মার্টফোন বাজারের ভবিষ্যৎ দরদাম।


