রাজনৈতিক নির্যাতিত তৃণমূল নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে বিশেষ বরাদ্দের দাবি

রাজনৈতিক নির্যাতিত তৃণমূল নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে বিশেষ বরাদ্দের দাবি

সংসদ  ডেস্ক

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে অতীতে রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বিগত ১৭ বছরে রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার প্রান্তিক ও ছিন্নমূল নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে রাষ্ট্রীয় সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে রোববার সংসদ অধিবেশনে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রস্তাবিত বাজেটকে বাস্তবভিত্তিক, জনবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, বিগত দেড় যুগের প্রতিকূল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পর দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও ভঙ্গুর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে এই পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বাজেটকে ‘চ্যালেঞ্জিং’ ও ‘দিবাস্বপ্ন’ হিসেবে সমালোচনা করা হলেও, জাতীয় সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ধারাবাহিকতায় এটি একটি সফল ও বাস্তবায়নযোগ্য রূপরেখা।

বাজেটকে কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব না ধরে সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন উল্লেখ করে তিনি এর মানবিক, উদ্ভাবনী ও নারীবান্ধব দিকগুলো তুলে ধরেন। বিশেষত বিনিয়োগকেন্দ্রিক প্রবৃদ্ধি, ওয়ান স্টপ সার্ভিস, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং যুব ও নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাজেটের বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী বরাদ্দের বিবরণ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, কৃষি খাতে ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, ২৫ লাখ ২২ হাজার প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ এবং কৃষক কার্ড কর্মসূচির মতো যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা খাতে ২ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল ইউনিফর্ম ও মিড-ডে মিল এবং স্বাস্থ্য খাতে ই-হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আধুনিকায়নে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে চালু এবং দেড় হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াইফাই সংযোগের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

পরিবহন খাতে নারীদের সুরক্ষায় ‘পিংক বাস’ ও পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগসহ বিদ্যুৎ ও স্থানীয় সরকার খাতের সংস্কারের প্রশংসা করেন শামা ওবায়েদ। পাশাপাশি, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের কল্যাণে বাজেটে বরাদ্দ রাখাকে স্বাগত জানান। পরিশেষে, বাজার থেকে সরকারি ঋণ গ্রহণের বিষয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই ঋণ ভোগনির্ভর নয় বরং উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কৌশলগত বিনিয়োগ, যা জিডিপির তুলনায় সম্পূর্ণ টেকসই সীমার মধ্যে রয়েছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ