নেপালে দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের সম্পদ যাচাইয়ে বিশেষ প্যানেল গঠন

নেপালে দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের সম্পদ যাচাইয়ে বিশেষ প্যানেল গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নেপালে নতুন সরকার গঠনের পর দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ জোরদার করতে সাবেক ও বর্তমান রাজনীতিবিদ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ ও সম্পত্তি তদন্তের জন্য একটি বিশেষ প্যানেল গঠন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলমান দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠিত হয়। ওই নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে বিজয়ী হয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। দলের নেতা ৩৫ বছর বয়সী বলেন্দ্র শাহ বর্তমানে নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পূর্বে কাঠমান্ডু মহানগরীর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দুর্নীতিবিরোধী ও সংস্কারপন্থী অবস্থানের জন্য ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

মন্ত্রিসভার মুখপাত্র শাসমিত পোখরেল বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান, পাঁচ সদস্যের এই তদন্ত প্যানেলের নেতৃত্ব দেবেন নেপাল সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রাজেন্দ্র কুমার ভান্ডারি। তিনি বলেন, আইনি মানদণ্ডের ভিত্তিতে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করা হবে। তদন্ত শেষে প্রণীত প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তবে প্যানেলটি কতদিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করবে সে বিষয়ে সরকার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা ঘোষণা করেনি। এ নিয়ে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা রয়েছে যে তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে, বিশেষ করে যেহেতু এটি অতীত ও বর্তমান উভয় পর্যায়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের সম্পদ যাচাইয়ের মতো বিস্তৃত পরিসরকে অন্তর্ভুক্ত করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৮ সালে ২৩৯ বছরের পুরোনো রাজতন্ত্র বিলুপ্তির পর নেপালের রাজনৈতিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। পরবর্তী সময়ে একাধিক সরকার ক্ষমতায় এলেও দুর্নীতির অভিযোগ এবং স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে জনমনে অসন্তোষ থেকে যায়। বর্তমান উদ্যোগকে সেই দীর্ঘস্থায়ী অভিযোগ মোকাবিলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের আওতায় শত শত রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তার সম্পদ যাচাই করা হতে পারে। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহার বা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়টি অগ্রাধিকার পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন সরকার গঠনে আরএসপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দলটি মাত্র তিন বছর আগে গঠিত হলেও নির্বাচনে দুর্নীতি দমন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাকে প্রধান রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে সামনে আনে। নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নেপালের রাজনীতিতে প্রভাবশালী ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর তুলনায় এই নতুন রাজনৈতিক শক্তি জনসমর্থন অর্জনে সফল হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ নেতৃত্বের উত্থান এবং দুর্নীতিবিরোধী জনমতের প্রভাব নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতা নতুন সরকার গঠনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে তারা মনে করেন।

সরকারের এই তদন্ত উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক কাঠামোতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। তবে একই সঙ্গে এটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল একটি প্রক্রিয়া হওয়ায় এর বাস্তবায়ন ও ফলাফল নিয়ে নানা প্রশ্নও রয়েছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ