অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশে বর্তমানে ইতিহাসের সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিদর্শন শেষে তিনি এ তথ্য জানান। একই সময়ে অপরিশোধিত তেলের সংকটে শোধনাগারটির পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এপ্রিল ও মে মাসের জন্য দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং জুন মাসের সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিকল্প উৎস থেকে আমদানির পরিকল্পনাও বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে বর্তমানে পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২৯ সাল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা দেশের জ্বালানি পরিশোধন সক্ষমতা বাড়াবে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় শিল্প ও কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল) অপরিশোধিত তেলের ঘাটতির কারণে গত ১৩ এপ্রিল থেকে পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সর্বশেষ অপরিশোধন কার্যক্রম ওই দিন সম্পন্ন হয়।
খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে উত্তেজনা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটায় প্রায় দুই মাস ধরে অপরিশোধিত তেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। সর্বশেষ চালান দেশে আসে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। নতুন চালান মে মাসের শুরুতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইআরএলের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মূল মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার পর বিকল্প উৎস থেকে সংগৃহীত তেল ব্যবহার করে কয়েকদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়। কক্সবাজারের মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং পাইপলাইনে জমে থাকা প্রায় ৫ হাজার টন তেল এবং সংরক্ষণ ট্যাংকের তলানিতে থাকা ডেড স্টক ব্যবহার করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। তবে এসব মজুতও শেষ হয়ে যাওয়ায় পরিশোধন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী, ইআরএল সাধারণত দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে। কিন্তু সংকটের কারণে গত মাস থেকে তা কমিয়ে দৈনিক ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছিল। মোট পাঁচটি ট্যাংকে থাকা প্রায় ৩৩ হাজার টন ডেড স্টক এবং অতিরিক্ত সংগ্রহ করা তেল ব্যবহার করে এতদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৬৮ থেকে ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করা হয়। এই শোধনাগার থেকে এলপিজি, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন, ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলসহ মোট ১৬ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন করা হয়। বাকি চাহিদা পূরণে ভারত ও চীন থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানিনির্ভরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন চালান সময়মতো পৌঁছানো এবং পরিশোধন কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


