অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
ওয়াশিংটন সফররত বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে সংস্থাটি এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। বৈঠকে ঋণের শর্তাবলি এবং দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও কিছু কারিগরি ও নীতিগত বিষয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, আইএমএফের সঙ্গে চলমান আলোচনার কয়েকটি বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আরও বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, আলোচনার টেবিল থেকে কোনো চূড়ান্ত নেতিবাচক বার্তা আসেনি, বরং কিছু সংস্কার প্রস্তাব এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্যের আদান-প্রদান বাকি রয়েছে। অর্থমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সংস্থাটির সঙ্গে দরকষাকষির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান বজায় রাখার বিষয়টি সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।
আইএমএফের এই ঋণ কর্মসূচি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এর আগে অনুমোদিত ৪.৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের প্যাকেজের আওতায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কয়েকটি কিস্তি পেয়েছে। তবে পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের আগে আইএমএফ সাধারণত সরকারের আর্থিক খাতের সংস্কার, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি কমানোর মতো বিষয়গুলোতে অর্জিত অগ্রগতির মূল্যায়ন করে থাকে। নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং সেগুলো উত্তরণে নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরা হয়।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইএমএফের ঋণের কিস্তি সময়মতো ছাড় পাওয়া বাংলাদেশের জন্য জরুরি, কারণ এটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তবে সংস্থাটির পক্ষ থেকে প্রায়ই ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ কমানো এবং কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির মতো কঠিন শর্তারোপ করা হয়। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, সরকার এই শর্তগুলো পরিপালনের ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক-সামাজিক স্থিতিশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এগোতে চাইছে।
পরবর্তী দুই সপ্তাহের আলোচনায় মূলত কোন কোন সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও ধারণা করা হচ্ছে মুদ্রানীতি এবং আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরানোর বিষয়ে আইএমএফের সুনির্দিষ্ট কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে। সরকার আশা করছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই অস্পষ্টতাগুলো দূর করে আইএমএফের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে পরবর্তী কিস্তির অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়াটি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ওয়াশিংটন সফর শেষে দেশে ফেরার পর অর্থমন্ত্রী এই আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করবেন বলে জানা গেছে।


