আগামী বছর হজের খরচ আরও কমানোর প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

আগামী বছর হজের খরচ আরও কমানোর প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, আগামী বছর থেকে হজযাত্রীদের আর্থিক বোঝা লাঘব করতে হজের খরচ আরও কমিয়ে আনার সক্রিয় প্রচেষ্টা চালাবে সরকার। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলতি বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট উদ্বোধনকালে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

এ বছর ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩০১ ফ্লাইটটি রাত ১২টা ২০ মিনিটে সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে। ফ্লাইটটি উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের নিরাপদ যাত্রা ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বর্তমান সরকারের সীমাবদ্ধতা ও প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে বলেন, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে এ বছরের হজ ব্যবস্থাপনার কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছে। তিনি জানান, হজের প্রাথমিক প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়াগুলো ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকেই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে দায়িত্ব গ্রহণের পর পর বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনা সরকারের পক্ষে কঠিন ছিল। তা সত্ত্বেও বর্তমান প্রশাসনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এ বছর হজের খরচ জনপ্রতি প্রায় ১২ হাজার টাকা কমানো সম্ভব হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত এবং হজযাত্রীবান্ধব করতে। এবার সময় স্বল্পতার কারণে অনেক কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব না হলেও আগামী বছরের জন্য আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি, সামনের বছর হজযাত্রীদের জন্য খরচ আরও কমানোর পাশাপাশি তাদের ভ্রমণ ও আবাসন সংক্রান্ত কষ্ট কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।”

দেশের সামগ্রিক সমৃদ্ধি ও জনগণের কল্যাণে হজযাত্রীদের কাছে দোয়া চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা মহান আল্লাহর পবিত্র ঘরে যাচ্ছেন। দেশের মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করবেন। আমি দোয়া করি আপনারা যেন সুস্থভাবে হজ পালন শেষ করে পুনরায় নিজ দেশে ফিরে আসতে পারেন।”

হজ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক হজযাত্রী সৌদি আরব যাচ্ছেন। প্রথম ফ্লাইটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ মন্ত্রী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

এছাড়াও বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ, ধর্ম সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ, বেসামরিক বিমান চলাচল সচিব ফাহমিদা আখতার এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতি বছর হজের ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে যে উদ্বেগ কাজ করে, প্রধানমন্ত্রীর এই সুনির্দিষ্ট আশ্বাস তাকে কিছুটা লাঘব করবে। বিশেষ করে হজের বিমান ভাড়া এবং সৌদি আরবের মোয়াল্লেম ফি সহ অন্যান্য আনুসঙ্গিক খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত হাজীদের জন্য এটি বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে।

উল্লেখ্য, এবারের হজ মৌসুমে হজযাত্রীদের সুষ্ঠু যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্স নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করবে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করতে বিশেষ বুথ এবং পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ করা হয়েছে যাতে বিমানবন্দরে কোনো ধরনের ভোগান্তি পোহাতে না হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী বছরের হজ প্যাকেজ আরও সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে এখনই কাজ শুরু করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হজের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজড করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে, যা ভবিষ্যতে হজযাত্রীদের নিবন্ধন থেকে শুরু করে সকল সেবাপ্রাপ্তি আরও সহজতর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ