রাজনৈতিক ডেস্ক
আগামী ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টনে বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) এই সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী বুধবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
শনিবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবাদ সম্মেলনে ১ মে’র কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচন পরবর্তী প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমানের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জামায়াত আমীর অভিযোগ করেন যে, ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা কারচুপির মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এই বক্তব্যের কড়া নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জামায়াত আমীরের এমন মন্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশি ও বিদেশি সকল পর্যবেক্ষক এবং আন্তর্জাতিক মহল একবাক্যে স্বীকার করেছে যে, ২০২৬ সালের এই সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে সম্পন্ন হয়েছে। জনরায়ের প্রতিফলনে বিএনপি এককভাবে ২১৩টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেছে। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে অর্জিত এই জয়কে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হিসেবে আখ্যা দেওয়াকে তিনি জনমতের অবমাননা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আরও যোগ করেন যে, রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে একটি মহল দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সেখানে বিভেদ সৃষ্টি করতে চাইছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে ধোঁয়াশা তৈরির মাধ্যমে আবারও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার কোনো গোপন এজেন্ডা রয়েছে কি না, তা নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যে মির্জা ফখরুল অতীত ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, জনগণ ইতোমধ্যেই চরমপন্থী ও বিতর্কিত রাজনৈতিক আদর্শকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের অপশক্তিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট মহল সুকৌশলে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করে গণতান্ত্রিক কাঠামোকে নড়বড়ে করতে চায়, যা কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না।
১ মে’র সমাবেশকে কেন্দ্র করে শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় এই শ্রম দিবসে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি বর্তমান সরকারের গণতান্ত্রিক সংস্কারের অঙ্গীকারগুলো জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিবের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলন শেষে ১ মে’র কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিভিন্ন উপকমিটি গঠন ও দায়িত্ব বণ্টন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।


