মেট্রোরেলের হাই-ভোল্টেজ ট্র্যাকে বিড়াল: সাময়িক চলাচল বন্ধে ভোগান্তিতে যাত্রীরা

মেট্রোরেলের হাই-ভোল্টেজ ট্র্যাকে বিড়াল: সাময়িক চলাচল বন্ধে ভোগান্তিতে যাত্রীরা

জাতীয় ডেস্ক

রাজধানীর গণপরিবহনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম মেট্রোরেলের হাই-ভোল্টেজ বৈদ্যুতিক ট্র্যাকে (লাইন) একটি বিড়ালের অনুপ্রবেশের কারণে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কর্তৃপক্ষ এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। শনিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিট থেকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লাইনটি ঝুঁকিমুক্ত করে পুনরায় ট্রেন চলাচলের উপযোগী করার কাজ চলছে।

সাধারণত কারিগরি ত্রুটি, সিগন্যাল সমস্যা বা বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে মেট্রোরেল সাময়িক বন্ধ থাকার নজির থাকলেও, একটি ক্ষুদ্র প্রাণীর উপস্থিতির কারণে পুরো স্বয়ংক্রিয় যোগাযোগ ব্যবস্থা থমকে যাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। তবে মেট্রোরেলের কোন লাইনের ঠিক কোন স্টেশন বা পয়েন্টে বিড়ালটি প্রবেশ করেছে, তা এখনও সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পরিচালনাকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। দ্রুততম সময়ে উৎসস্থলটি চিহ্নিত করে ট্র্যাকিং সরানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ব্যস্ততম সময়ে হঠাৎ করে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী। শনিবার দুপুরের দিকে স্টেশনগুলোতে মুহূর্তের মধ্যেই অপেক্ষমাণ মানুষের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। অনেক যাত্রী ট্রেনের ভেতরে এবং প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে আটকা পড়েন। দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও পরিস্থিতির কোনো ইতিবাচক সমাধান না পেয়ে, বাধ্য হয়ে অনেক যাত্রী স্টেশন ত্যাগ করেন এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য সড়কপথের বিকল্প পরিবহনের দিকে পা বাড়ান। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার সড়কগুলোতেও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সৃষ্টি হতে দেখা গেছে।

পরিস্থিতি এবং স্টেশনের অভ্যন্তরে ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাময়িকভাবে নতুন কোনো যাত্রীকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রধান ফটকগুলো আটকে দিয়ে ভেতরে মাইকিংয়ের মাধ্যমে যাত্রীদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্ল্যাটফর্মে আটকে থাকা এবং টিকেট কাটা অপেক্ষমাণ যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। যারা সিঙ্গেল জার্নি টিকিট কেটেছিলেন কিংবা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) পাস বা র‍্যাপিড পাস পাঞ্চ করে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করেছিলেন, তারা কাউন্টার থেকে নিয়মানুযায়ী ভাড়ার টাকা বুঝে নিচ্ছেন।

মেট্রোরেল পরিচালনাকারী সংস্থার কারিগরি বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, মেট্রোরেলের ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেম এবং ট্র্যাকের বৈদ্যুতিক লাইন অত্যন্ত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন (হাই-ভোল্টেজ)। এই লাইনে যেকোনো বহিরাগত উপাদান বা জীবন্ত প্রাণীর উপস্থিতি বড় ধরনের শর্ট সার্কিট কিংবা অগ্নিদুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। যা কেবল ট্রেনের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থারই ক্ষতি করবে না, বরং যাত্রীদের জীবনের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর ও সাময়িক স্থগিতাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ডিএমটিসিএল-এর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, পুরো লাইনটি সম্পূর্ণ নিরাপদ, ঝুঁকিমুক্ত এবং বিড়ালটি অপসারণ করার জন্য বিশেষজ্ঞ টেকনিশিয়ান দল কাজ করছে। তবে কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঠিক কখন নাগাদ মেট্রোরেলের চাকা আবার সচল হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। লাইনের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পূর্ণ দূর হওয়ামাত্রই দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই আধুনিক গণপরিবহন সেবাটি পুনরায় চালু করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ