আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচিতে আধাসামরিক বাহিনী সিন্ধু রেঞ্জার্সের সদর দফতরে এক ভয়াবহ সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় চারজন হামলাকারীসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাকি তিনজন দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় করাচির পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা গুলিস্তান-ই-জওহরে অবস্থিত সিন্ধু রেঞ্জার্সের সদর দফতরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পরই নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও অঞ্চলজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সিন্ধু পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) জাভেদ আলম ওধো সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী হামলাকারীরা বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে রেঞ্জার্স সদর দফতরের প্রধান ফটকে সজোরে আঘাত হানে। প্রধান ফটকটি ভেঙে যাওয়ার পরপরই স্বয়ংক্রিয় এবং ভারী অস্ত্রে সজ্জিত কয়েকজন হামলাকারী প্রাঙ্গণের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা সেখানে অবস্থানরত নিরাপত্তা রক্ষীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী গোলাগুলি শুরু হয়। তবে প্রধান ফটকে আঘাত হানার সময় গাড়িটিতে কোনো বিস্ফোরণ ঘটেছিল কি না, তা এখনও সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক ও তদন্তকারী দল বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
সদর দফতরের ভেতরে হামলাকারীদের অনুপ্রবেশের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পাকিস্তানের বিশেষায়িত নিরাপত্তা বাহিনী। বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিট (এসএসইউ), অ্যান্টি-টেররিস্ট ফোর্স (এটিএফ) এবং সিন্ধু রেঞ্জার্সের সদস্যরা যৌথভাবে একটি বড় ধরনের কমান্ডো অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ থাকা চারজন হামলাকারীই নিহত হন। তবে হামলাকারীদের প্রতিহত করতে গিয়ে সম্মুখযুদ্ধে প্রাণ হারান তিন জন নিরাপত্তাকর্মী।
অভিযান শেষে পুরো এলাকাটি কর্ডন বা অবরুদ্ধ করে রাখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সদর দফতরের ভেতরে বা আশেপাশে আরও কোনো হামলাকারী কিংবা বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে রাতভর চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়। আশেপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পরপরই সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দ মুরাদ আলি শাহ হামলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন। তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিবিড় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে বিস্ফোরণ, নিরাপত্তা ঘাটতি এবং গোলাগুলির সার্বিক পরিস্থিতির বিবরণ উল্লেখ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
করাচির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বন্দরনগরীতে রেঞ্জার্সের মতো আধাসামরিক বাহিনীর সদর দফতরে এ ধরনের আত্মঘাতী ও পরিকল্পিত হামলা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের আঘাত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। করাচির এই ঘটনা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই হামলার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী জড়িত কি না, তা উদঘাটনে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ শুরু করেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।


