চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

জাতীয় ও জনস্বাস্থ্য ডেস্ক

চুয়াডাঙ্গায় উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে রবিবার সকাল ১০টায় এই কর্মসূচির সূচনা করা হয়। অন্ধত্ব প্রতিরোধ ও শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এই ক্যাম্পেইনে চলতি বছর চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট এক লাখ ৪৫ হাজার ৮৪৫ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা জেলার স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ কামাল, চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (ডিজিজ কন্ট্রোল) ডা. শামীমা ইয়াসমিন। অনুষ্ঠানে বক্তারা শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এই কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ক্যাম্পেইনের আওতায় চুয়াডাঙ্গা জেলার চার উপজেলার ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের দুটি আলাদা গ্রুপে বিভক্ত করে ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ১৭ হাজার ৫৪১ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস (১ থেকে ৫ বছর) বয়সী এক লাখ ২৮ হাজার ৩০৪ জন শিশুকে একটি করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই জনগুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিটি চুয়াডাঙ্গার প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, পুরো জেলায় মোট ৮৯৬টি আউটরিচ টিকাদান কেন্দ্র বা বুথ স্থাপন করা হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোনো শিশু যেন এই সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে দুর্গম এলাকাগুলোতে বিশেষ কেন্দ্র পরিচালনার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ ও স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়োজিত রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় মাঠপর্যায়ে কর্মসূচিটি সফল করতে মোট এক হাজার ৮১২ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক নিরলসভাবে কাজ করছেন। এছাড়াও কার্যক্রমের সার্বিক তদারকি ও ব্যবস্থাপনার জন্য ২৬৮ জন সরকারি ও বেসরকারি কর্মী সক্রিয় রয়েছেন। পুরো টিকাদান প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কি না এবং গুণগত মান বজায় থাকছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন ১১৮ জন প্রথম শ্রেণির তত্ত্বাবধায়ক (ফার্স্ট ক্লাস সুপারভাইজার)।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন কেবল শিশুর অন্ধত্বই দূর করে না, বরং এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত এই ক্যাপসুল সেবনে শিশুদের ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও হামসহ বিভিন্ন মারাত্মক জটিল রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। সরকার প্রতি বছর দেশব্যাপী এই ক্যাম্পেইন সফলভাবে পরিচালনা করে আসছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের শিশু মৃত্যুর হার হ্রাসে। চুয়াডাঙ্গা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জনে টিকাদান কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও জনবহুল স্থানে ভ্রাম্যমাণ বুথের মাধ্যমেও শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ