সারাদেশ ডেস্ক
কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খুলে এবার রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। দীর্ঘ ছয় মাস পর শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। বিপুল পরিমাণ এই নগদ অর্থ ছাড়াও দানবাক্সগুলোতে বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা এবং সোনা ও রূপার অলংকার পাওয়া গেছে।
শনিবার সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক ও মসজিদ কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. নাজমুস সাকিব খানের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। বাক্সগুলো থেকে টাকা প্রথমে ৪৩টি বস্তায় ভরা হয়। এরপর মসজিদের দ্বিতীয় তলায় রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্স মাদ্রাসা এবং আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকসহ প্রায় চার শতাধিক মানুষ মুদ্রা গণনা শুরু করেন। নিরাপত্তার জন্য সেখানে পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন ছিল।
রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী হারেছী প্রাপ্ত অর্থের চূড়ান্ত পরিমাণ নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গণনা শেষে সংগৃহীত অর্থ রূপালী ব্যাংকে মসজিদের অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছে। এছাড়া প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা এবং সোনা-রূপার অলংকারগুলো নিয়মানুযায়ী সরকারি ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সাধারণত প্রতি তিন মাস পর পর এই দানবাক্সগুলো খোলার নিয়ম রয়েছে। তবে জাতীয় নির্বাচন, বন্যাসহ বিভিন্ন অনিবার্য কারণে এবার প্রায় ছয় মাস পর এই বাক্সগুলো খোলা হলো। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল। তখন ৩৫টি বস্তা থেকে মোট ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সেই তুলনায় এবার ৪ কোটি ১২ লাখ ৩১ হাজার ৬০৮ টাকা বেশি সংগৃহীত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানিয়েছেন, শনিবারের প্রাপ্ত অর্থ বাদেই মসজিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আগে থেকে ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা জমা রয়েছে। নতুন প্রাপ্ত অর্থ যুক্ত হওয়ার পর ব্যাংকে রক্ষিত মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা।
মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত এই বিশাল অঙ্কের অর্থ সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে স্থানীয় জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। এই অর্থ দিয়ে মসজিদের নিজস্ব খরচ ও এর আওতাধীন এতিমখানার ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অনুদান দেওয়া হয়। এছাড়া ক্যানসার, কিডনি রোগসহ জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সহায়তায়ও এই ফান্ড থেকে নিয়মিত আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়ে থাকে। বর্তমানে এই অর্থ দিয়ে পাগলা মসজিদকে একটি আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলার বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।


