জাতীয় ডেস্ক
স্বল্পতম সময়ে দেশের ১৮ কোটি মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার একটি জনকল্যাণমুখী, সাহসী ও বাস্তবসম্মত বাজেট প্রণয়ন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গঠিত বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রোববার (২৮ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে হুইপ এসব কথা বলেন।
বাজেটের আকার ও বাস্তবায়ন যোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলের তোলা প্রশ্নের জবাবে হুইপ বলেন, মাত্র চার মাসের প্রস্তুতিতে এত বড় বাজেট প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন নিয়ে অনেকের মনে সংশয় থাকতে পারে। তবে সরকারের আন্তরিকতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং জনগণের সক্রিয় সহযোগিতার মাধ্যমে এই বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মূল লক্ষ্য নিয়েই এই বিশাল কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে জাতীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বিশেষ করে বাজেটে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য ‘পরিবারভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচি’ (ফ্যামিলি কার্ড) চালুর উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। এর মাধ্যমে দেশের অসচ্ছল পরিবারগুলো সরাসরি রাষ্ট্রীয় সহায়তার আওতায় আসবে, যা সামাজিক বৈষম্য হ্রাসে ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষা খাতের প্রসারে সরকারের নতুন উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুলব্যাগ, জুতা ও পোশাক বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ দরিদ্র পরিবারের শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করতে এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার রোধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের মূল লক্ষ্যই হওয়া উচিত সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো, যা এই প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে।
সংসদীয় গণতন্ত্রকে সুসংহত করার প্রসঙ্গে হুইপ বলেন, সংসদে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী বিরোধী দলের উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। একটি সক্রিয় বিরোধী দল থাকলে তা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে এবং সরকারের নীতি নির্ধারণের ভুলত্রুটি সংশোধনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সরকার সংসদকে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখতে চায়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকা শরীয়তপুরসহ সামগ্রিক দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি মেগা প্রকল্পের দাবি জানান। তিনি পদ্মা সেতু থেকে শরীয়তপুর ও হিজলা হয়ে পর্যটন নগরী কুয়াকাটা পর্যন্ত একটি নতুন রেললাইন নির্মাণের প্রস্তাব করেন। হুইপ বলেন, এই রেল সংযোগ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র দুই ঘণ্টায় কুয়াকাটায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। এটি কেবল যাতায়াত ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনবে না, বরং সামগ্রিক দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটন শিল্পে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে।


