অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক
ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, চাকরিজীবীদের বেতন আয়ের এক-তৃতীয়াংশ করমুক্ত থাকে। ফলে নতুন এই সিদ্ধান্তের কারণে বছরে সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো আয়কর দিতে হবে না। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের করদাতাদের স্বস্তি দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, করমুক্ত সীমার এই ৫০ হাজার টাকা বৃদ্ধি নিম্ন আয়ের মানুষদের করের বোঝা থেকে সাময়িক রেহাই দিলেও সব শ্রেণির করদাতার জন্য সামগ্রিক করের চাপ কমছে না। প্রস্তাবিত বাজেটে কর রেয়াতের সীমা কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে সঞ্চয়পত্র, সরকারি সিকিউরিটিজ এবং ব্যাংকের স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) সুদ থেকে কেটে নেওয়া উৎসে করকে আগে যেখানে চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে গণ্য করা হতো, এখন তা অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচিত হবে। এর ফলে করদাতাদের করের দায় ও আইনি প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে অপরিবর্তিত বা ক্ষেত্রবিশেষে বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া ব্যবসা, কৃষি, বাড়িভাড়া কিংবা অন্যান্য খাত থেকে আয়ের ক্ষেত্রে করহারে কোনো ছাড় না আসায় করদাতাদের ওপর আর্থিক চাপ বহাল থাকবে।
নীতিগত সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত বাজেটের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিয়মিত কর পরিশোধের মাধ্যমে জমি ও ফ্ল্যাটের প্রকৃত বাজারমূল্য প্রদর্শনের যে বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছিল, তা বাতিল করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সাধারণ নাগরিকদের ব্যাংকিং প্রক্রিয়া সহজতর করতে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পরিধি বাড়াতে নতুন ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। তবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আয়ের ওপর প্রযোজ্য বিদ্যমান করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিগত সরকারের আমলে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং নৈতিক সমতা বজায় রাখার স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সেই সুযোগ সম্পূর্ণ বাতিল করে। নতুন বাজেটেও কর আইনি সংস্কার ও ছাড়ের ক্ষেত্রে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে।


