জাতীয় ডেস্ক
দেশের নদী ব্যবস্থাপনার টেকসই উন্নয়নে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি দেশের নদীগুলোকে এক একটি ‘জীবন্ত সত্তা’ হিসেবে উল্লেখ করে এগুলো রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া অডিটরিয়ামে নোঙর ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। নদী রক্ষা, নাব্যতা সংকট নিরসন এবং সামগ্রিক পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরতে এই সভার আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যে পানি সম্পদমন্ত্রী দেশের জলবায়ু ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় নদীগুলোর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪১৫টি নদ-নদী রয়েছে। দেশের কৃষি, অর্থনীতি ও ভূপ্রকৃতি মূলত এই নদী ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সরকার সর্বোচ্চ জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই অংশ হিসেবে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী ও জলাধার খনন এবং পুনঃখননের একটি মেগা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে দেশের নদীগুলোর পানির ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট দূর হবে।
আলোচনা সভায় পানি সম্পদমন্ত্রী দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসনে একটি যুগান্তকারী অগ্রগতির কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ অনুমোদন লাভ করেছে। এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ২৪টি জেলার কৃষি, মৎস্য সম্পদ, পরিবেশের ভারসাম্য এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে গড়াইসহ অন্যান্য শাখা নদীগুলোতে পানির প্রবাহ সচল রাখা এবং নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে এই ব্যারাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
পরিবেশবিদ ও সংশ্লিষ্ট খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এবং দেশব্যাপী জলাশয় খনন কর্মসূচি সময়মতো বাস্তবায়িত হলে তা দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসন রোধ করতে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখবে।
নোঙর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সুমন শামসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান খোকন এবং বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া। বক্তারা দেশের নদী রক্ষায় আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং নদীর তীরবর্তী অবৈধ দখলদারিত্ব উচ্ছেদে সরকারের দৃশ্যমান ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নদীভিত্তিক টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দেন।


