মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় আইএসের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা চালালো

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় আইএসের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা চালালো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র বাহিনী সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে জানা গেছে, ১৩ ডিসেম্বর সিরিয়ায় মার্কিন সেনাদের ওপর আইএসের হামলার জবাবে ১০ জানুয়ারি এই হামলার নির্দেশ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে “অপারেশন হকআই স্ট্রাইক।”
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, এ অভিযানে ২০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান অংশগ্রহণ করেছে। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব বিমান থেকে ৩৫টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ৯০টিরও বেশি নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। হামলায় এফ-১৫ই, এ-১০, এসি-১৩০জে, এমকিউ-৯ ড্রোনের পাশাপাশি জর্ডানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানও অংশ নেয়। তবে এখনো হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান ও এতে হতাহতদের সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “আমরা কখনো ভুলব না এবং কখনো পিছিয়ে যাব না।” এই হামলা মাসখানেক আগে সিরিয়ার পালমিরা এলাকায় আইএসের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে, যেখানে দুই মার্কিন সেনা ও একজন মার্কিন বেসামরিক দোভাষী নিহত হন।
মার্কিন সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ২০ থেকে ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে এই অভিযানে ১১টি হামলা চালানো হয় এবং প্রায় ২৫ জন আইএস সদস্যকে হত্যা বা আটক করা হয়েছে। এর আগে, ১৯ ডিসেম্বর প্রথম অভিযানে মার্কিন ও জর্ডানের যৌথ বাহিনী মধ্য সিরিয়ার বিভিন্ন স্থানে ৭০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় এবং সেখানে ১০০টিরও বেশি নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
সিরিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও জটিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের পর দেশটি অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে বিদ্রোহী নেতা আহমেদ আল-শারা, পরিচিত নাম আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি, দেশটির নিয়ন্ত্রণে আছেন। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আইএসের বিরুদ্ধে এ ধরনের বিমান হামলা সাময়িকভাবে তাদের কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আনার জন্য রাজনৈতিক সমাধান ও স্থানীয় ক্ষমতাধারীদের মধ্যে সমন্বয় অপরিহার্য।
মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অপারেশন হকআই স্ট্রাইক সিরিয়ায় আইএসের অবকাঠামো ও কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হয়েছে। এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হলে মার্কিন ও তাদের মিত্র বাহিনী আইএসের পুনর্গঠন ও বিস্তার প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে।
সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের কারণে অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা, জনসাধারণের জীবন ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদিও সামরিক অভিযান আইএসের ওপর তাত্ক্ষণিক চাপ সৃষ্টি করে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগের বিকল্প নেই।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ