অন্তঃনগর ট্রেনে ঈদুল ফিতরের বিশেষ অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু

অন্তঃনগর ট্রেনে ঈদুল ফিতরের বিশেষ অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু

জাতীয় ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল ফিতরের উৎসব শেষ হওয়ার পর ঘরমুখো মানুষের সুবিধার্থে আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শনিবার (১৪ মার্চ) দ্বিতীয় দিনে প্রবেশ করেছে। রেলওয়ের নিয়মিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ২৪ মার্চের ট্রেনযাত্রার জন্য এই টিকিট পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাত্রীদের সুবিধার জন্য আন্তঃনগর ট্রেনের সাত দিনের অগ্রিম টিকিট বিশেষ ব্যবস্থায় বিক্রি করা হচ্ছে। এ বছরের মতো সব আসন বিক্রি হবে অনলাইনের মাধ্যমে, যাতে যাত্রীরা বাড়তি সময় নষ্ট না করে তাদের ট্রেনযাত্রার আয়োজন করতে পারেন।

টিকিট বিক্রির সময়সূচি অনুযায়ী, সকাল ৮টা থেকে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট অনলাইনে পাওয়া যাবে। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলের সব ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে দুপুর ২টা থেকে। এই সিদ্ধান্ত রাজধানীর রেল ভবনে অনুষ্ঠিত ঈদুল ফিতরের বিশেষ ট্রেন প্রস্তুতিমূলক সভায় নেওয়া হয়েছে।

রেলওয়ের কার্যক্রম অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ২৩ মার্চের ট্রেনের টিকিট ১৩ মার্চ বিক্রি হয়েছে। এরপর ২৫ মার্চের টিকিট ১৫ মার্চ, ২৬ মার্চের টিকিট ১৬ মার্চ, ২৭ মার্চের টিকিট ১৭ মার্চ, ২৮ মার্চের টিকিট ১৮ মার্চ এবং ২৯ মার্চের টিকিট ১৯ মার্চ বিক্রি হবে। এছাড়া, চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ২০, ২১ ও ২২ মার্চের ট্রেনের টিকিটও বিক্রির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নন-এসি কোচের ক্ষেত্রে যাত্রীদের অনুরোধে ২৫ শতাংশ দাঁড়িয়ে যাওয়ার আসন যাত্রা শুরুর আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে সংগ্রহ করা যাবে। এক জন যাত্রী সর্বোচ্চ একবারে চারটি আসন ক্রয় করতে পারবে এবং কোনো টিকিট ফেরত দেওয়া হবে না।

রেলওয়ের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ঈদ যাত্রার সময় যাত্রীদের চাপ কমানো এবং তাদের সুবিধাজনক ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করা। বিশেষ এই ব্যবস্থা অনুযায়ী অনলাইনের মাধ্যমে দ্রুত টিকিট ক্রয় করা গেলে, যাত্রীরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ঝুঁকি এড়িয়ে যেতে পারবেন।

অগ্রিম টিকিট বিক্রির এই ব্যবস্থা দেশের বৃহত্তম গণপরিবহন খাত হিসেবে রেলওয়ের কার্যক্রমে ধারাবাহিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাত্রীরা এতে সুবিধা পাচ্ছেন, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে জেলা শহরগুলোর সংযোগ আরও মসৃণ হচ্ছে।

এই পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রেলওয়ে প্রতিটি ট্রেনের আসন সংখ্যা, যাত্রীর সংখ্যা এবং ভ্রমণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি রাখবে। যাত্রীদের ট্রেনযাত্রা স্বাচ্ছন্দ্যময় ও ঝুঁকিমুক্ত করতে রেলওয়ে পর্যাপ্ত কর্মী মোতায়েন করবে এবং যাত্রীদের সকল ধরনের তথ্য অনলাইনের মাধ্যমে প্রদান করা হবে।

সর্বশেষ, এই ব্যবস্থা যাত্রীদের ঈদযাত্রার প্রস্তুতি আরও সহজ করবে এবং ঘরমুখো মানুষের চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ