২৯ এপ্রিল শুরু হচ্ছে দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক বিটিকেজি এক্সপো ২০২৬

২৯ এপ্রিল শুরু হচ্ছে দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক বিটিকেজি এক্সপো ২০২৬

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে। দেশের দ্রুত বিকাশমান এই শিল্পকে বিশ্ববাজারে আরও সুসংহত করতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের বৃহৎ প্রদর্শনী ‘বিটিকেজি এক্সপো ২০২৬’। আগামী ২৯ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চার দিনব্যাপী এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। আন্তর্জাতিক এই প্রদর্শনীটি যৌথভাবে আয়োজন করছে বিকেএমইএ এবং ইনফোরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২৯ এপ্রিল সকাল ১০টায় আইসিসিবিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। অনুষ্ঠানে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিকেজির কনভেনার ফজলে শামীম এহসান, ইনফোরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজির নির্বাহী পরিচালক স্পেন্সার লিন এবং অ্যালিয়েন্ট লিমিটেডের সিইও রুবাইয়াত আহসানসহ সংগঠনের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকদের তথ্যমতে, বিটিকেজি এক্সপো ২০২৬-এ বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশের এক হাজারেরও বেশি প্রদর্শক অংশগ্রহণ করবে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— কানাডা, চীন, তাইওয়ান, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। আইসিসিবির আটটি প্রদর্শনী হল জুড়ে প্রায় ২০ হাজার বর্গমিটার এলাকায় ১ হাজার ৮০০টি বুথ স্থাপন করা হচ্ছে। এত বিশাল পরিসরে টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের মেলা বাংলাদেশে এর আগে অনুষ্ঠিত হয়নি।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “এই প্রদর্শনী বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি আমাদের শিল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সামর্থ্য প্রদর্শন করবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের আয়োজন দেশি উদ্যোক্তাদের সাথে বিদেশি প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মেলবন্ধন তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

কেবল পণ্য প্রদর্শনীতেই এই আয়োজন সীমাবদ্ধ থাকছে না। মেলা চলাকালীন শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, আধুনিক প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশল নির্ধারণে তিনটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। বিকেএমইএ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বিইউটেক্স) এবং টেক্সটাইল ট্যুডে যৌথভাবে এসব সেমিনারের আয়োজন করবে। বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণে এসব আলোচনা সভা থেকে দেশের পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাব অনুভূত হচ্ছে, তখন এ ধরনের মেলা বাংলাদেশের কারখানাগুলোকে আধুনিক যন্ত্রপাতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে কৃত্রিম তন্তু বা ম্যান-মেড ফাইবারের বৈশ্বিক চাহিদার প্রেক্ষাপটে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

বিটিকেজি এক্সপো প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চার দিনে এই প্রদর্শনীতে বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধির সমাগম ঘটবে, যা সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রার বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রপ্তানি আদেশ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ