জাতীয় ডেস্ক
ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশনের (ফিফা) সঙ্গে ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রায় ৪৭ কোটি ২৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা) একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ সরকার। তবে ভ্যাট ও আয়করসহ এই চুক্তির মোট ব্যয় দাঁড়াবে ৬৩ কোটি ৭৯ লাখ ৯৩ হাজার ১২৫ টাকা। বিভিন্ন বেসরকারি খাত, স্যাটেলাইট চ্যানেল ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কাছে সম্প্রচারস্বত্ব ও বিজ্ঞাপন বিক্রির মাধ্যমে এই ব্যয়ের সিংহভাগই ইতোমধ্যে উঠে এসেছে। ফলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) নামমাত্র খরচে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এই টুর্নামেন্ট সম্প্রচার করতে পারবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচারের এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও যৌক্তিক মূল্যে ফিফার সঙ্গে এই চুক্তি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, বিটিভি ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করার আইনি ও কৌশলগত অধিকার লাভ করল। সাধারণত এই ধরনের মেগা স্পোর্টস ইভেন্টের সম্প্রচারস্বত্ব কিনতে সরকারকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি দিতে হয়। তবে এবারের বিন্যাসটি ভিন্ন এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক উপায়ে সাজানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রীয় কোষাগার বা বিটিভির নিজস্ব তহবিল থেকে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে না, যা জনসাধারণের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। দেশের বিভিন্ন টেলিকম অপারেটর, বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এবং ওটিটি (ওভার-দ্য-টপ) বা ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে সাব-লাইসেন্সিং বা সম্প্রচারস্বত্ব পুনর্বিক্রি করা হয়েছে। একই সাথে টুর্নামেন্ট চলাকালীন বিজ্ঞাপন প্রচারের স্লটগুলোও পূর্বনির্ধারিত নীতিমালার ভিত্তিতে বিক্রি করা হয়েছে। এই বহুমুখী বাণিজ্যিক মডেলের কারণে মূল খরচের প্রায় সম্পূর্ণ অংশই ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
অর্থনৈতিক ও গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের সম্প্রচার খাতে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে একদিকে যেমন সরকারের ওপর আর্থিক চাপ কমেছে, অন্যদিকে দেশের বেসরকারি গণমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোও বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্ট সরাসরি সম্প্রচারের সুযোগ পাচ্ছে। এর ফলে দেশের ক্রীড়ামোদী দর্শকেরা টেলিভিশন স্ক্রিনের পাশাপাশি মোবাইল ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে খেলা উপভোগ করার সুযোগ পাবেন, যা ডিজিটাল বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের একটি বাস্তব প্রতিফলন।
একই সাথে, নামমাত্র খরচে বিটিভির মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে ফুটবল বিশ্বকাপ পৌঁছে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতির প্রসারে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারি এই সম্প্রচার নীতিমালার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টগুলোর স্বত্ব ক্রয়ের ক্ষেত্রে একটি সফল মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।


