ক্রীড়া ডেস্ক
আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে শক্তিশালী বেলজিয়ামের মুখোমুখি হয়ে ১-১ গোলের ব্যবধানে ড্র করেছে মিসর। সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তারকাখচিত বেলজিয়াম দলকে। ফিফা র্যাংকিং ও সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় বেলজিয়াম এই ম্যাচে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রতিফলন ঘটেনি। আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ পর্যন্ত সমতায় শেষ হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক ফুটবলে বড় দলগুলোর বিপক্ষে অপেক্ষাকৃত কম শক্তির দলগুলোর ধারাবাহিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার যে প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এই ম্যাচটি তারই অন্যতম উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
খেলার প্রথমার্ধেই লিড নিয়ে বেলজিয়ামকে বড় ধাক্কা দেয় মিসর। ম্যাচের ২০ মিনিটে নিখুঁত এক আক্রমণে মিসরকে এগিয়ে নেন মিডফিল্ডার ইমাম আশুর। মোহাম্মদ সালাহর নেতৃত্বাধীন মিসরীয় আক্রমণভাগ ম্যাচের শুরু থেকেই বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে চাপে রাখতে সক্ষম হয়। গোল খাওয়ার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে কেভিন ডি ব্রুইনার বেলজিয়াম। তারা বেশ কিছু আক্রমণ তৈরি করলেও মিসরের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং গোলরক্ষকের চমৎকার নৈপুণ্যের কারণে প্রথমার্ধে সমতায় ফিরতে ব্যর্থ হয়। উল্টো কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মিসর বেশ কয়েকবার ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে, যা বেলজিয়ামের রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।
দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে বেলজিয়াম তাদের আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে কাঙ্ক্ষিত গোলটি তারা নিজেদের দক্ষতায় নয়, বরং মিসরের আত্মঘাতী ভুলের মাধ্যমে পায়। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে একটি আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়ে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে ফেলেন মিসরীয় ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। এই উপহারসূচক গোলের সুবাদে ম্যাচে ১-১ সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। সমতায় ফেরার পর উভয় দলই জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে লড়ে। ম্যাচের শেষ দিকে বেলজিয়াম বেশ কিছু পরিবর্তন এনে আক্রমণভাগ শক্তিশালী করলেও মিসরের রক্ষণব্যূহ ভাঙা সম্ভব হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত ১-১ ব্যবধানের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।
এই ড্রয়ের ফলে বেলজিয়ামের কৌশলগত এবং রক্ষণভাগের ঘাটতিগুলো পুনর্বিবেচনার দাবি রাখছে। বিশেষ করে আগামী বড় টুর্নামেন্টগুলোর আগে দলের ডিফেন্স লাইনের সমন্বয়হীনতা এবং সুযোগ কাজে লাগানোর ব্যর্থতা কোচিং স্টাফদের জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, সালাহর মিসরের জন্য এই ফলাফল অত্যন্ত ইতিবাচক। ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তিকে রুখে দিয়ে তারা প্রমাণ করেছে যে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে যেকোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করার সামর্থ্য তাদের রয়েছে। এই ম্যাচটি দলটির আত্মবিশ্বাস আগামী দিনের ম্যাচগুলোতে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


