আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যে দেশটির অভিবাসন বিভাগের (জেআইএম) পরিচালিত পৃথক অভিযানে ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ জুন) সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের একটি বিশেষ দল বাতু কেভস এলাকার একটি নাইট মার্কেট (পাসার মালাম) এবং সেলায়াং বারুর একটি আবাসিক এলাকায় এই চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে। মূলত ওই অঞ্চলে অবৈধ অভিবাসীদের অবস্থান এবং অননুমোদিত ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সেলাঙ্গর রাজ্য অভিবাসন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত বিদেশি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় অবস্থানের বৈধ কাগজপত্র নেই। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও নথি যাচাই-বাছাইয়ে দেখা গেছে, তাদের অনেকেই ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করে দেশটিতে অবস্থান করছিলেন এবং কেউ কেউ সম্পূর্ণ অবৈধভাবে কর্মসংস্থানে লিপ্ত ছিলেন। মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর আওতাধীন বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজনে নিজ নিজ দেশে ফেরত (ডিপোর্ট) পাঠানো হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়া সরকার দেশটির জননিরাপত্তা রক্ষা, স্থানীয় শ্রমবাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে এই বিশেষ ক্র্যাকডাউন বা সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে কুয়ালালামপুর ও এর পার্শ্ববর্তী সেলাঙ্গর রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে বিদেশি কর্মীদের নথিপত্র নিয়মিত যাচাই করা হচ্ছে।
দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো ধরনের বৈধ নথিপত্র ছাড়া বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান এবং অননুমোদিতভাবে ব্যবসা পরিচালনা করার বিষয়টি মালয়েশিয়ার প্রচলিত আইনের পরিপন্থী। জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে আগামী দিনগুলোতেও এই ধরনের আকস্মিক ও সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয়দাতা ও নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ।


