ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়রের মাঠে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই তাঁর জাতীয় দলের অনুশীলনে ফেরার কথা থাকলেও ডান পায়ের পেশির চোটের কারণে তিনি মাঠে নামতে পারেননি। একদিকে চোটের কারণে মাঠে ফেরা নিয়ে সংশয়, অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনে পরিবারে নতুন সদস্য আসার ঘোষণা—সব মিলিয়ে বর্তমানে ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন এই ব্রাজিলীয় তারকা।
চলতি মেগা ইভেন্টে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হলেও নেইমার এখনো মাঠে নামতে পারেননি। গত ১৭ মে ব্রাজিলের ঘরোয়া ক্লাব সান্তোসের হয়ে খেলার সময় তিনি ডান পায়ের পেশিতে গুরুতর আঘাত পান। চোটের বর্তমান অবস্থা মূল্যায়নের জন্য সম্প্রতি তাঁর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। তবে মেডিকেল টিমের পক্ষ থেকে পরীক্ষার ফলাফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তাঁর পুনর্বাসন প্রক্রিয়া কতদিন দীর্ঘায়িত হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ জুন ফিলাডেলফিয়ায় নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এর আগে মরক্কোর বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করা প্রথম ম্যাচে বেঞ্চেই বসে থাকতে হয়েছিল নেইমারকে। দলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, হাইতি ম্যাচের আগেই এই ফরোয়ার্ড পূর্ণ অনুশীলনে ফিরতে পারবেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোচিং স্টাফ ও ফুটবল বিশ্লেষকদের সেই আশায় বড় ধাক্কা লেগেছে।
অবশ্য ফুটবলার হিসেবে মাঠের বাইরে থাকলেও দলের ওপর নেইমারের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব এখনো স্পষ্ট। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচটিতে খেলার সুযোগ না পেলেও পুরো সময় ডাগআউটে উপস্থিত ছিলেন তিনি। ম্যাচ চলাকালীন সতীর্থদের সঙ্গে কৌশলগত নানা বিষয়ে এবং ম্যাচ রিডিং নিয়ে তাঁকে আলোচনা করতে দেখা গেছে। ওই ম্যাচে ব্রুনো গুইমারেসের পাস থেকে গোল করে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ব্রাজিলকে সমতায় ফেরালেও আক্রমণভাগে নেইমারের মতো একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি স্পষ্ট অনুমিত হয়েছে।
দলের ভেতরের একটি সূত্র এবং স্থানীয় ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে নেইমারকে খেলানোর ঝুঁকি হয়তো নেবে না ম্যানেজমেন্ট। চিকিৎসকদের প্রাথমিক লক্ষ্য, নকআউট পর্বের আগেই যেন এই ফরোয়ার্ডকে শতভাগ ম্যাচ ফিট করে তোলা যায়। কারণ, টুর্নামেন্টের পরের ধাপগুলোতে ব্রাজিলের সাফল্যের জন্য নেইমারের মাঠে থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাঠের এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই ব্যক্তিগত জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের কথা জানিয়েছেন নেইমার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ও সঙ্গী ব্রুনা বিয়ানকার্দির যৌথ ঘোষণা অনুযায়ী, এই জুটি পুনরায় সন্তানসম্ভবা। এটি হতে যাচ্ছে নেইমারের পঞ্চম সন্তান এবং বিশ্বস্ত সূত্র অনুযায়ী, দম্পতিটি আরও একটি কন্যাসন্তানকে স্বাগত জানাতে যাচ্ছেন।
নেইমারের ব্যক্তিগত জীবন সবসময়ই বৈচিত্র্যময় এবং সংবাদমাধ্যমের নজরে থেকেছে। তাঁর প্রথম সন্তান ডাভি লুকার বয়স বর্তমানে ১৪ বছর, যার মা কারোল দান্তোস। এরপর ব্রুনা বিয়ানকার্দির ঘরে জন্ম নেয় কন্যা মাভি। পরবর্তীতে মডেল আমান্দা কিম্বার্লির ঘরে তাঁর আরেক কন্যা হেলেনার জন্ম হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নেইমার ও বিয়ানকার্দি দম্পতির ঘরে আসে কন্যাসন্তান মেল। এক বছরের মাথায় পরিবারে নতুন সদস্য আসার এই খবর নেইমারের ব্যক্তিগত জীবনে আনন্দের হাওয়া বইয়ে দিলেও, ফুটবল মাঠে তাঁর অনুপস্থিতি ব্রাজিল ভক্তদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়েই রইল। কোয়ার্টার ফাইনাল বা সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে তিনি কতটা অবদান রাখতে পারবেন, তা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে তাঁর চিকিৎসার অগ্রগতির ওপর।


