নিউইয়র্কে ইকোসক মানবিক অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিউইয়র্কে ইকোসক মানবিক অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিবেদক

জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিলের (ইকোসক) হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টে (মানবিক সহায়তা বিষয়ক অধিবেশন) অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে তিনি নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হন। আগামী ১৭ থেকে ১৯ জুন অনুষ্ঠিতব্য এই আন্তর্জাতিক সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন তিনি। সরকারি সফর শেষে আগামী ২০ জুন তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টে মূল সভাপতির (চেয়ার) দায়িত্ব পালন করবেন জাতিসংঘে স্পেনের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হেক্টর গোমেজ, যিনি একই সাথে এই সেগমেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এই সম্মেলনে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন বাস্তবায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের মানবিক প্রভাব, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম আরও কার্যকর করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিলের এই হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্ট বিশ্বব্যাপী মানবিক সংকট, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ সহায়তার সমন্বয় জোরদারে একটি অন্যতম শীর্ষ বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম। প্রতি বছর এই ফোরামে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ, বিশ্বসংস্থার বিভিন্ন বিশেষায়িত সংস্থা, আন্তর্জাতিক দাতা দেশ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, শিক্ষাবিদ এবং সংকটাপন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা একত্রিত হন। চলমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বহুমুখী সংকটের মুখে মানবিক সহযোগিতা বাড়ানো ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে এই আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে থাকা এবং বিপুল সংখ্যক বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিককে (রোহিঙ্গা) আশ্রয় দেওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে একটি অন্যতম প্রধান অংশীদার। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ বৈশ্বিক জলবায়ু ন্যায়বিচার, দুর্যোগ প্রশমন এবং শরণার্থী সংকটের টেকসই সমাধানের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত ও তহবিল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সাথে, বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান ও নীতিগত প্রস্তাবনা তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এই সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ