জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নারীর নেতৃত্ব নিশ্চিত করা জাতীয় অস্তিত্বের প্রশ্ন: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নারীর নেতৃত্ব নিশ্চিত করা জাতীয় অস্তিত্বের প্রশ্ন: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নারীর ক্ষমতায়ন কেবল একটি সাধারণ উন্নয়ন এজেন্ডা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের জাতীয় অস্তিত্বের প্রশ্নে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশে নারীরাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফলে জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা অর্জনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

রবিবার (২৮ জুন, ২০২৬) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের আলোকি মিলনায়তনে ‘ইমপাওয়ার উইমেন ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট সোসাইটিস (ফেজ টু)’ প্রকল্প আয়োজিত ‘জাতীয় অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি ও সম্প্রসারণ কর্মশালা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

অধ্যাপক ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার নারীর সার্বিক ক্ষমতায়নে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে কাজ করছে। সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং জলবায়ু অভিযোজন সংক্রান্ত প্রতিটি উদ্যোগে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দেশের গ্রামীণ নারীরা প্রায়শই বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হন। তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ করে তুলতে সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, নির্দিষ্ট প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষিত নারীরা ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু-স্থিতিস্থাপক কৃষি এবং বৈচিত্র্যময় জীবিকা নির্বাহের মাধ্যমে নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। এই সফল মডেল ও অভিজ্ঞতাগুলো দেশের অন্যান্য জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। জাতীয় স্তরের নীতি প্রণয়ন থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। জলবায়ু সংক্রান্ত যেকোনো পরিকল্পনায় জেন্ডার-সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করা এখন আর ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং এটি একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া।

ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রসঙ্গে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ ধরনের পরিবেশ ও নারী উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি নারীকে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলা, যাতে তাঁরা পরিবার ও সমাজ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন।

অনুষ্ঠানে ইমপাওয়ার প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলায় বাস্তবায়িত কার্যক্রমের সাফল্যের চিত্র এবং শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতাগুলো মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা সফল মডেলগুলো দেশব্যাপী সম্প্রসারণের জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা পেশ করেন।

উক্ত জাতীয় কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন উন্নয়ন অংশীদার, জাতিসংঘ সংস্থার প্রতিনিধি, এনজিও কর্মকর্তা ও গবেষকবৃন্দ। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা কুড়িগ্রাম, জামালপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা ও কক্সবাজার জেলা থেকে আগত প্রায় শতাধিক তৃণমূল পর্যায়ের নারী উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধি এই কর্মশালায় অংশ নিয়ে তাঁদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ