বজ্রপাতে কোরবানির গরু মৃত্যু: বাঞ্ছারামপুরে ক্ষতিগ্রস্ত ৭ পরিবার

বজ্রপাতে কোরবানির গরু মৃত্যু: বাঞ্ছারামপুরে ক্ষতিগ্রস্ত ৭ পরিবার

 সারাদেশ ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বজ্রপাতে একটি কোরবানির গরু মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাত শরিক মিলে কোরবানি দেওয়ার জন্য গরুটি কেনা হয়েছিল। আকস্মিক এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক ক্ষতি ছাড়াও স্থানীয়ভাবে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা ও গরুর মালিকপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, নিহত গরুটির আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল প্রায় ২ লাখ টাকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাহেরচর গ্রামের পরিচিত কুস্তিগির ওমর বলী ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে সাত ভাগে কোরবানি দেওয়ার উদ্দেশ্যে কিছুদিন আগে গরুটি ক্রয় করেছিলেন। ঘটনার দিন বিকেলে এলাকায় হঠাৎ তীব্র বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। ওই সময় গরুটি তাদের বসতবাড়ির গোয়াল ঘরে বাঁধা অবস্থায় ছিল। আকস্মিক একটি বজ্রপাত গোয়াল ঘরের ওপর বা কাছাকাছি পতিত হলে ঘটনাস্থলেই গরুটি মারা যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওমর বলী জানান, বিকেলে বৃষ্টির সময় আকস্মিক বজ্রপাতে গোয়াল ঘরে থাকা গরুটি মারা যায়। এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হলেও উদ্ভূত পরিস্থিতিকে তারা ভাগ্যের লিখন হিসেবেই মেনে নিচ্ছেন। পরিবারের অন্য শরিকরা জানিয়েছেন, আসন্ন ঈদের প্রস্তুতির মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই গরুটি। কোরবানির ঠিক আগমুহূর্তে এমন আকস্মিক দুর্ঘটনায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

এদিকে ঘটনার পর মৃত গরুটি কোরবানির শরিক ও স্থানীয় যুবকেরা রশি দিয়ে বেঁধে টেনে নিয়ে গিয়ে মাটিচাপা দেওয়ার জন্য গর্তে নিয়ে যাচ্ছেন—এমন একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বাহেরচর গ্রাম ও আশপাশের এলাকার মানুষ ওমর বলীর বাড়িতে ভিড় জমান এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র অল্প কয়েকদিন। এমন সময়ে গ্রামীণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য ২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি বহন করা অত্যন্ত দুরুহ। শরিকেরা হয়তো ধর্মীয় বিধান ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার্থে পুনরায় নতুন কোনো পশু ক্রয়ের চেষ্টা করবেন, তবে ঈদের পূর্বমুহূর্তে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা পরিবারগুলোর আনন্দের আবহে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।

বাংলাদেশে প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুম ও ঈদের আগে বজ্রপাতে গবাদিপশু এবং মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, খোলা মাঠ কিংবা টিনের চালযুক্ত গোয়াল ঘরে সঠিক আর্থিং বা বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা না থাকায় গবাদিপশু প্রায়শই এমন দুর্ঘটনার শিকার হয়। এই ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় গবাদিপশুকে নিরাপদ ও পাকা আশ্রয়ে রাখা এবং গ্রামীণ এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ