ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারী ও শিশুর নিরাপত্তায় সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারী ও শিশুর নিরাপত্তায় সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

রাজনীতি ও প্রশাসন ডেস্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব মহলের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে সাইবার অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর ভূমিকার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন, যৌন হয়রানি, গুম ও হত্যার বিরুদ্ধে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক সভায় এই তাগিদ দেওয়া হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন জরিপের তথ্য অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী কোনো না কোনো ধরনের ডিজিটাল সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিশু সাইবার বুলিং, অনলাইন যৌন হয়রানি ও বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল অপরাধের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার ও সহজলভ্যতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব অপরাধের ধরন ও ভয়াবহতা দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাইবার বুলিং, অনলাইনে হুমকি প্রদান, ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অপব্যবহার এবং ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো অপরাধগুলো বর্তমান সমাজে নতুন এবং জটিল চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং নারী ও শিশুদের টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর অধীনে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কেবল একক কোনো সংস্থার পক্ষে এই সামাজিক ব্যাধি দূর করা সম্ভব নয়।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সচেতনতামূলক সভায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস সাত্তার বেগের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল মাওয়া, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মালা বড়াল, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিলারা খাতুন এবং মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন মোল্লা।

সভায় বক্তারা তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেন। তারা বলেন, ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে শৈশব থেকেই পারিবারিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে সন্তানদের ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের ওপর অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সাইবার অপরাধের শিকার হলে আইনি প্রতিকার পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভুক্তভোগীদের সচেতন করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, ইমাম, পুরোহিত ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। উপস্থিত প্রতিনিধিরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ এবং নারী ও শিশু সুরক্ষায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ