ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপে নতুন মাইলফলক বেলিংহামের

ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপে নতুন মাইলফলক বেলিংহামের

ক্রীড়া ডেস্ক

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে শনিবার দিবাগত রাতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। দুই দলের আক্রমণাত্মক ফুটবলে দশ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের এই ম্যাচে জয়ী হয়েছে ইংলিশরা। এই জয়ের দিনে অনন্য এক রেকর্ডের মালিক হয়েছেন ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। বিশ্বকাপের এক আসরে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করার নতুন রেকর্ড গড়েছেন ২৩ বছর বয়সী এই তরুণ ফুটবলার।

শনিবারের এই ম্যাচের আগে বিশ্বকাপে বেলিংহামের নামের পাশে ছিল ছয়টি গোল। ম্যাচটির দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে তিনি নিজের সপ্তম গোলটি করেন। এই গোলের মাধ্যমেই বিশ্বকাপের এক আসরে ইংল্যান্ডের কোনো ফুটবলারের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন বেলিংহাম। এতদিন এই রেকর্ডের অংশীদার ছিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকার এবং অধিনায়ক হ্যারি কেইন।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে গ্যারি লিনেকার ছয়টি গোল করে রেকর্ড গড়েছিলেন। দীর্ঘ সময় অক্ষত থাকা এই রেকর্ডে চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে ভাগ বসান হ্যারি কেইন এবং জুড বেলিংহাম। তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে হ্যারি কেইনকে মূল একাদশে রাখেননি কোচ টমাস টুখেল। বেঞ্চে থাকা কেইন আর গোল করার সুযোগ পাননি। অন্যদিকে, দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে বেলিংহাম ফ্রান্সের রক্ষণভাগ ভেঙে গোল আদায় করে নিলে রেকর্ডটি এককভাবে তার নামে যুক্ত হয়।

ম্যাচটিতে দশ গোল হওয়ার বিষয়টি ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ড উভয় দলই রক্ষণভাগে কিছুটা নমনীয়তা প্রদর্শন করায় গোলের বন্যা বয়ে গেছে। ফ্রান্স যখন ম্যাচে ফেরার প্রাণপণ চেষ্টা করছিল এবং ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছিল, তখন অন্তিম মুহূর্তে বেলিংহামের গোলটি ব্যবধান বাড়িয়ে দেয় এবং ফ্রান্সের ম্যাচে ফেরার সব সম্ভাবনা ধূলিসাৎ করে দেয়।

ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে মিডফিল্ডার হিসেবে বিশ্বকাপে এমন গোলসংখ্যা অর্জনের ঘটনা বিরল। বেলিংহামের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বর্তমান ইংল্যান্ড দলের আক্রমণভাগের গভীরতা এবং ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোচ টমাস টুখেলের অধীনে বেলিংহাম যেভাবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, তা ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ডের জন্য বড় ভরসার জায়গা তৈরি করেছে।

এই জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ড ২০২৬ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করল। আসরজুড়ে হ্যারি কেইনের গোল করার ধারাবাহিকতার মাঝে বেলিংহামের এই উত্থান ইংলিশ ফুটবলে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের সক্ষমতাকে প্রতিষ্ঠিত করল। লিনেকার ও কেইনের মতো কিংবদন্তিদের ছাড়িয়ে গিয়ে রেকর্ড বইয়ে নিজের নাম লেখানোর মাধ্যমে বেলিংহাম বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করলেন। বিশ্বকাপের এই আসরটি বেলিংহামের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জনের বছর হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ