বেসরকারি উদ্যোগে ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস ও সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ছাড়িয়েছে

বেসরকারি উদ্যোগে ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস ও সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ছাড়িয়েছে

জাতীয় অর্থনীতি ও ডাক ডেস্ক

ডাক সেবাকে আরও গতিশীল ও জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস বা পোস্ট পিকআপ পয়েন্ট স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার। ইতোমধ্যে উপযুক্ত স্থান নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া দেশের সক্রিয় ৪টি মোবাইল অপারেটর কোম্পানির অধীনে বর্তমানে মোট নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ৮২ লক্ষে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান এবং মহিলা আসন-১০ এর সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির পৃথক দুটি প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রী জানান, দেশের ক্রমবর্ধমান ই-কমার্স ও এফ-কমার্স (ফেসবুক কমার্স) খাতকে বড় পরিসরে লজিস্টিক সহায়তা দিতে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১৪টি আধুনিক ফুলফিলমেন্ট সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে ই-কমার্স পণ্যের সুনির্দিষ্ট সংগ্রহ, গুণগত মান বজায় রেখে সংরক্ষণ, প্রসেসিং, বুকিং, সর্টিং, পরিবহন এবং বিতরণ কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালিত হবে। আধুনিক বাণিজ্যের প্রসার এবং তৃণমূলের উদ্যোক্তাদের পণ্য বিপণন ব্যবস্থা সহজ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডাক বিভাগের সেবার মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়ন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, জনসাধারণের সুবিধার্থে সরকারি ডাক সেবার গতি বৃদ্ধি ও কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর আওতায় বর্তমানে ভূমির খতিয়ান বা ডকুমেন্টস হোম ডেলিভারি, পাসপোর্ট বাল্ক ডেলিভারি এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স সরাসরি গ্রাহকের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম সফলভাবে চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক গ্রাহক চাহিদার কথা বিবেচনা করে ডাক বিভাগের মাধ্যমে ই-কমার্স পণ্যের ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ সেবা চালুর বিষয়টিও চূড়ান্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমএস) ট্রাফিক কার্যক্রমের আওতায় ভিডিও মামলা ও ট্রাফিক নোটিশ সংশ্লিষ্ট চালক বা মালিকের ঠিকানায় ডাকযোগে সফলভাবে পাঠানো হচ্ছে।

ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন যে, ডিএমএস বা ডমিস্টিক মেইল মনিটরিং সিস্টেম সফটওয়্যারের মাধ্যমে এখন গ্রাহকদের পণ্যের অনলাইন ভিত্তিক ‘রিয়েল টাইম ট্র্যাকিং ও ট্রেসিং’ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর ফলে প্রেরক ও প্রাপক উভয়েই পণ্যের বর্তমান অবস্থান ঘরে বসেই জানতে পারছেন। এর পাশাপাশি সারা দেশে সবচেয়ে কম মূল্যে চিঠি ও পার্সেল বিলি এবং ইএমএস বা এক্সপ্রেস মেইল সার্ভিসের মাধ্যমে বিদেশে সাশ্রয়ী মাশুলে পার্সেল প্রেরণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। এমনকি দেশের বিভিন্ন ফল উৎপাদনকারী অঞ্চল থেকে সবচেয়ে কম খরচে, নিরাপদে ও দ্রুততম সময়ে মৌসুমি ফল পরিবহনের কাজও পোস্ট অফিসের নিজস্ব পরিবহনে করা হচ্ছে। চলমান এই পরিকল্পনাগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ডাক বিভাগ একটি লাভজনক ও সেবামূলক সংস্থায় রূপান্তরিত হবে।

এদিকে দেশের টেলিকম খাতের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে সক্রিয় ও বৈধ মোবাইল অপারেটর কোম্পানির সংখ্যা ৪টি। কোম্পানিগুলো হলো— রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড এবং বেসরকারি তিন অপারেটর গ্রামীণফোন লিমিটেড, রবি আজিয়াটা পিএলসি ও বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেড। মন্ত্রী সংসদে নিশ্চিত করেন যে, এই ৪টি মোবাইল কোম্পানির অধীনে দেশজুড়ে বর্তমানে মোট বৈধ রেজিস্ট্রার্ড বা নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ৮২ লক্ষে, যা দেশের সংযোগ ও ডিজিটাল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের একটি বড় মাইলফলক।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ