আবহাওয়া ও দুর্যোগ ডেস্ক
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের পার্থক্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতির কারণে সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বায়ুচাপের তারতম্যের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। এমতাবস্থায়, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সতর্ক সংকেত জারির ফলে উপকূলীয় জেলাগুলোতে নৌ-চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য পৃথক সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের স্বাক্ষরিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ (১৯ জুলাই) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের ৮টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে উল্লেখিত অঞ্চলের নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বায়ুচাপের পার্থক্যের কারণে উপকূলীয় ও নদীবন্দর এলাকায় এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ার বেগ এবং বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে স্বাভাবিক জনজীবনে বিঘ্ন ঘটতে পারে। সমুদ্র ও নদীবন্দরের জন্য জারি করা এসব সতর্ক সংকেত মূলত নৌ-দুর্ঘটনা এড়ানো এবং জেলে ও নাবিকদের নিরাপত্তার লক্ষ্যে দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসাধারণকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশনার জন্য নিয়মিত আবহাওয়ার বুলেটিন অনুসরণ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে গভীর সমুদ্রে বিচরণ না করে উপকূলের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ বহাল রাখা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় অঞ্চলের নদীবন্দরের কার্যক্রম সার্বক্ষণিক তদারকির আওতায় রাখা হয়েছে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে উপকূলীয় জেলাগুলোতে নৌ-পরিবহন ও মৎস্য আহরণ সংশ্লিষ্টরা ব্যাপক সতর্কতার মধ্যে রয়েছেন।


