ঝিনাইদহের মহেশপুরে ১২ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার

ঝিনাইদহের মহেশপুরে ১২ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার

অপরাধ ডেস্ক

ঝিনাইদহের মহেশপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে মহেশপুর থানার ফতেপুর ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামসংলগ্ন ফতেপুর বাওড়ের পাশের একটি কাঁচা রাস্তা থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। অভিযানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শহিদুল ইসলাম নামে একাধিক মামলার এক পলাতক আসামি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন মহেশপুর থানার কদমতলা মাঠপাড়া গ্রামের মো. রাসেল হোসেন (৩০), একই থানার বৈচিতলা গ্রামের চঞ্চল হালদার (২৭) এবং যশোর জেলার চৌগাছা থানার চাঁনপাড়া গ্রামের মো. আক্তারুল (২১)। এছাড়া পলাতক অভিযুক্ত আসামি মো. শহিদুল ইসলাম (৩৪) মহেশপুরের যুগিহুদা গ্রামের বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, পলাতক শহিদুল ইসলাম এই মাদক কারবারের অর্থদাতা ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করতেন।

মহেশপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার এএসআই মো. শামসুল করিমের নেতৃত্বে একটি দল কদমতলা গ্রামের জনৈক কাদের মিয়ার বাড়ির সামনে অবস্থান নেয়। পুলিশের বিশেষ অভিযানে ওই তিনজনকে মাদকসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে গ্রেফতারকৃত রাসেল হোসেনের হেফাজত থেকে ১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও পুলিশের নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, পলাতক আসামি শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মহেশপুর থানায় সরকারি কাজে বাধা প্রদান, মারধর, চুরি ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে এবং মাদকদ্রব্য নির্মূলে পুলিশের নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে। পালিয়ে যাওয়া প্রধান আসামি শহিদুল ইসলামকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃত তিনজনকে আজ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঝিনাইদহ জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা হিসেবে পরিচিত মহেশপুর এলাকাটিকে মাদক ব্যবসায়ীরা প্রায়ই রুট হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টা চালায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দমনে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল আশা করছে, মাদকের সাথে জড়িত মূলহোতাদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হলে সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ